দেশে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ৯৪ লক্ষ শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান।
সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। উক্ত ব্রিফিংয়ের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে একটি প্রতিবেদন নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, হাম ও রুবেলা নির্মূলে চলমান বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গত ২৭ এপ্রিল (সোমবার) সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৯৪ লাখ ২৩ হাজার ৭৯৯ জন শিশুকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “প্রতিরোধযোগ্য এই রোগে একটি শিশুর মৃত্যুও অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে এবং সরকারের অবহেলায় যেন আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির দায়ভার সরকারের ওপর না থাকলেও প্রতিটি নাগরিকের জীবনের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি জানান: হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম দেশজুড়ে বিরতিহীনভাবে চলবে। টিকার মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য রোগের ক্ষেত্রে শতভাগ সাফল্য অর্জনে কাজ করছে সরকার। কোনো এলাকা যেন টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
উপদেষ্টা শিশুদের অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে রোগগুলো টিকার মাধ্যমে সহজে প্রতিরোধ করা সম্ভব, সেগুলোর ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। দেশের প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
হামের প্রকোপ মোকাবিলায় সরকারের এই বিশাল টিকাদান কর্মসূচি মূলত শিশু মৃত্যুহার শূন্যে নামিয়ে আনার একটি বড় পদক্ষেপ। ৯৪ লাখের বেশি শিশুকে ইতোমধ্যে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে এবং এই কার্যক্রম আরও বেগবান করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন