সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত ওই অডিওতে তাকে এক গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থের সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করতে শোনা যায়।
অডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া কথোপকথনে সারওয়ার আলম মাজারের দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দানবাক্সগুলো থেকে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা এবং একটি অলঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা মাজার ফান্ডে যুক্ত করা হয়েছে।
ফোনালাপে তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া অর্থ জেলা প্রশাসক ও ওয়াকফ ইন্সপেক্টরের যৌথ ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রথমে মাজার কমিটির একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করে তিন সদস্যের যৌথ হিসাব খোলার পরিকল্পনা ছিল। তবে তা বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ও ওয়াকফ ইন্সপেক্টরের নামে সোনালী ব্যাংকে যৌথ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা সিদ্ধান্ত নেবেন।
প্রসঙ্গত, গত ২২ জুন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের চারটি এবং জেলা প্রশাসনের স্থাপিত আরও চারটি দানবাক্সসহ মোট আটটি দানবাক্স ডাবল লক পদ্ধতিতে খোলা হয়। গণনা শেষে সেখানে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার এবং দুটি সৌদি রিয়াল পাওয়া যায়। পরে এসব অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী হযরত শাহজালালের (রহ.) নামে সোনালী ব্যাংকের করপোরেট শাখায় জমা দেওয়া হয়। দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম মাজার তহবিলে অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকার একটি চেকও প্রদান করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন