প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে সৃষ্ট নতুন বাস্তবতা মোকাবিলায় সময়োপযোগী আইনি সংস্কার অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকর আইন প্রণয়ন ও সংস্কারে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামসহ আইন অঙ্গনের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ ও রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
ল' রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি হাসান জাবেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করে। গণমাধ্যম যত বেশি বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল হবে, নাগরিকরা তত বেশি সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র ও সমাজ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন। আর আইনবিষয়ক সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিচার বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের আস্থা ও উপলব্ধি গড়ে তুলতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি যেমন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি নতুন ধরনের জটিলতাও সৃষ্টি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি ছবি, ভিডিও কিংবা তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং এসব বিষয়ে আইনের অবস্থান এখন বিশ্বব্যাপী আলোচনার বিষয়। এই বাস্তবতায় প্রচলিত আইনকে দ্রুত সময়োপযোগী করে তোলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, সমাজের দ্রুত রূপান্তরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনেরও দ্রুত রূপান্তর হওয়া দরকার। কিন্তু বাস্তবে আইনি সংস্কারের গতি এখনো অনেক ধীর। এই ব্যবধান দূর করতে আইনজীবী, বিচারবিশারদ, গবেষক এবং আইনবিষয়ক সাংবাদিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি জানান, সাইবার আইন সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটিতে তিনি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সরকার একটি আধুনিক, কার্যকর ও বাস্তবসম্মত আইনি কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার খুব শিগগিরই আইন বিশেষজ্ঞ ও ল রিপোর্টার্স ফোরামের মতো পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় মতামত ও সুপারিশ গ্রহণ করবে। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কার্যকর ও বাস্তবায়নযোগ্য আইন প্রণয়নে আপনাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আমাদের প্রয়োজন।
তিনি ল রিপোর্টার্স ফোরামের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, বার্ষিক সাধারণ সভা যেন কেবল সাংগঠনিক বা আর্থিক হিসাব-নিকাশে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বাস্তবতায় আইন ও বিচারব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি কার্যকর চিন্তা ও কর্মপরিকল্পনার সূচনা ঘটায়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, উইদাউট ডেটা, এনি ইনফরমেশন ইজ নাথিং বাট ওপিনিয়ন। তথ্য, মতামত, অনুমান এবং বাস্তবতার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করাই গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব। বিশেষ করে আইনবিষয়ক সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতাই একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি মানবকল্যাণমুখী ও কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, ব্যারিস্টার শিশির মনির, ল রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি সালেহউদ্দিনসহ বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা বক্তব্য রাখেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন