× UCB Sticker Card
শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বাসস

প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

জ্বালানি তেল নিয়ে সুখবর দিল সরকার

বাসস

প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আরও ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত সক্ষমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল (গ্যাস অয়েল) এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল (উড়োজাহাজের জ্বালানি) আমদানি করা হবে।

সরকারি সূত্র জানায়, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা, শিল্প ও কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই জ্বালানি সরবরাহ করবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড। আমদানির জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল ক্রয় করছে। সম্প্রতি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, সরকার সাধারণত ছয় মাস পরপর জ্বালানি চাহিদা অনুযায়ী আমদানি করে থাকে। জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এই প্রস্তাব তৈরি করা হয়, যা পরে অনুমোদন পায়।

তিনি আরও জানান, প্রশাসনিক অনুমোদনের পর বিপিসি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (নোয়া) দেবে এবং চূড়ান্ত চুক্তির পর দ্রুত সরবরাহ শুরু হবে।

বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে নোয়া ইস্যু করা হয়েছে। চুক্তি সম্পন্ন হলে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ শুরু হবে।

তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো যেকোনো পরিস্থিতিতে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা। বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ দিনের মজুত রয়েছে, যা নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে বাড়ানো হচ্ছে।

বিপিসির প্রস্তাব অনুযায়ী, জুন–আগস্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬২ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা (ডলার প্রতি ১২৩.২৫ টাকা হারে)।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ও ডলারের বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে এই ব্যয় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। আমদানির অর্থ বিপিসির নিজস্ব তহবিল থেকে এবং প্রয়োজনে ঋণ বা সরকারি সহায়তার মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।

বিপিসির প্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজ চলাচলে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

এ ছাড়া যুদ্ধঝুঁকি প্রিমিয়াম ও জাহাজ ভাড়াও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালের রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ডিজেলের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ২৮৪.৯৫ ডলারে পৌঁছায়, যা বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে।

তবে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। প্রায় ৬০ দিনের মজুত রয়েছে এবং এলসি খোলার ক্ষেত্রে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে, ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ঝুঁকি নেই।

জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে একটি স্বয়ংক্রিয় ফর্মুলা চালুর কাজ চলছে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি মজুত সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Link copied!