সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৫, ১১:৫১ এএম

জাতীয় পার্টি কি নিষিদ্ধ হচ্ছে

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৫, ১১:৫১ এএম

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

জাতীয় পার্টি এবং গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মারধরে নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে জাতীয় পার্টির জন্য সময়টা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কথা উঠেছে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা নিয়েও। এ নিয়ে জনমনেও ব্যাপক প্রশ্ন জেগেছে। প্রশ্ন উঠেছে, এবার কি জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ করবে বাংলাদেশ সরকার? এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে তুমুল আলোচনা। 

গণঅধিকার পরিষদের ওপর হামলার পর সেদিন রাতেই ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা-ভাংচুর এমনকি আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এক প্রতিবাদ সমাবেশে জাতীয় পার্টিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ করা, নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা এবং হামলার ঘটনার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগের দাবি তুলেছে গণঅধিকার পরিষদ।

এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজাজামান জাতীয় পার্টি ‘‘নিষিদ্ধের আইনগত দিক খতিয়ে দেখার’ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, যদি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হতে পারে, জাতীয় পার্টি কেন নিষিদ্ধ হবে না?  জাতীয় পার্টি ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের রক্তের সাথে বেইমানি করেছে। রক্ত নিয়ে খেলেছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টি জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করেছে। সুতরাং নুরের ওপর হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এটা সুগভীর চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। সেই কারণে যে দাবি (জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ) উঠেছে তার আইনগত দিক যাচাই-বাছাই করে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় আমি তা দেখব।’

জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে দলটির ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী নিজেও একটি বিদেশি গণমাধ্যমকে এই ‘চাপ অনুভব’ করার কথা জানিয়েছেন।

তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, তিন মাস আগেই আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পর এবার কি জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ করবে বাংলাদেশ সরকার? যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এখনো জাতীয় পার্টিকে নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আসেনি।

১০ মে এক নির্বাহী আদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই দল এবং দলটির অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার। জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রেও অনেক বিশ্লেষকই একই ধরনের আবহ তৈরি করা হচ্ছে বলে মনে করছেন।

কারণ জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তারা বলছে, এই ষড়যন্ত্রকারীদের ইন্ধনেই নুরের ওপর হামলা হয়েছে। জাতীয় পার্টি ফ্যাসিস্টের দোসর। তারা পতিত হাসিনা সরকারের অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দিয়েছে। তাদের অবশ্যই নিষিদ্ধ করতে হবে। আমরা সরকারকে আমাদের দাবি জানিয়েছি। জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করতে আমরা আন্দোলন আরও জোরদার করব। আমরা কোনোভাবেই জাতীয় পার্টিকে আর দেখতে চাই না। এরা আওয়ামী লীগের বি-টিম। তারা আওয়ামী লীগের পুতুল।

এনসিপিও জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করবে জানিয়ে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্ববায়ক মনিরা শারমিন বলেন, জাতীয় পার্টি ভারতের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের কাজে নেমেছে। জি এম কাদের ভারতে গিয়ে সেই বৈঠকই করে এসেছেন। কিন্তু সেটা হতে দেওয়া হবে না। জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি মহল জাতীয় পার্টির হয়ে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। জাতীয় পার্টি ফ্যাসিবাদের দোসর। তাই শুরু থেকেই আমরা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি- দুটি দলই নিষিদ্ধের দাবি করে আসছি। সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করলেও জাতীয় পার্টির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি। কিন্তু নিতে হবে।

রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জেলার পর ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সুতরাং জাতীয় পার্টি তো আগে থেকেই অনেক চাপে ছিল। বিরাজমান পরিস্থিতিতে এখন আরও চাপে পড়ে গেল। নুরের ওপর হামলার পর অন্য বড় দলগুলোও এখন হয়তো বা রাজনৈতিক কারণেই জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবি জানাবে।

Link copied!