সিলেট নগরীতে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। অভিযানে দুইজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাঁতিপাড়া পয়েন্ট এলাকায় থেকে সুহেল সরকার (২২) নামের এক যুবককে ১৪–১৫ জন দুর্বৃত্ত জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে তাঁতিপাড়ার নাজমা নিবাস নামের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় আটকে রাখা হয়।
সেখানে অপহরণকারীরা ধারালো চাকু ও কেচি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং লোহার রড ও স্টিক দিয়ে মারধর করে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তারা তার পোশাক খুলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয়।
পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলে তিনি বিষয়টি কোতোয়ালী মডেল থানাকে জানান।
এরপর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকিরের নির্দেশনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালান। অভিযানে তাঁতিপাড়ার নাজমা নিবাসের দ্বিতীয় তলা থেকে অপহরণ ও মুক্তিপণ চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— তানজিম মাহবুব নিশান (২১), আহসান হাবিব মুন্না (১৯), জুবাইন আহমদ (১৯), সুফিয়ান আহমদ (১৯), মো. জাকির হোসেন (১৯), মারজান (১৯), মোসাদ্দেক আলী (১৮), ফারদিন আহমদ (১৮), জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮) ও মিজান আহমদ (১৮)।
অভিযানের সময় আসামিদের হেফাজতে থাকা আরেক ভুক্তভোগী প্রবাসী জাহিদ আহমদকে (৪২) উদ্ধার করা হয়। তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের কাছ থেকে দুই ভুক্তভোগীর দুটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত কেচি, চাকু ও লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে অপহরণ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
এ বিষয়ে তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

