× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মোহাম্মদ শহিদুল হক সোহেল

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৪:৩৩ পিএম

তারেক রহমান ও স্বনির্ভর নতুন বাংলাদেশ

মোহাম্মদ শহিদুল হক সোহেল

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৪:৩৩ পিএম

মোহাম্মদ শহিদুল হক সোহেল। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

মোহাম্মদ শহিদুল হক সোহেল। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের সমপর্যায়ে পৌঁছানোর অঙ্গীকার নিয়ে রাজনীতিতে আগমন ঘটে তারেক রহমানের। এ মনোভাব স্পষ্ট হয় তার একাধিক বক্তব্য থেকে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জেলা-উপজেলা পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক/অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়কালে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের মূলকথাই হলো, ধর্ম-বর্ণ-ভাষা নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি। এ দেশকে এগিয়ে নিতে বিভক্ত নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। কোনো স্বপক্ষ-বিপক্ষ শক্তি নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি। এ মনোভাব নিয়ে শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করতে হবে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানিকভাবে বাংলাদেশে জন্মসূত্রের নাগরিকদের পরিচয় দিয়েছেন তাই এখন সারা দুনিয়ার মানুষ আমাদের চেনে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে।

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যেখানে জাতীয়তার বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অদৃশ্য কারণে আমাদেরকে ‘বাঙালি’ বলা হলো। ভাষাভিত্তিক জাতীয়তা ‘বাঙালি’ বললে ভারতীয় বাঙালি না বাংলাদেশের বাঙালি এ নিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের জাতীয়তা বিভ্রাটে পড়তে হতো দিন দিন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মাধ্যমে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতির উদ্দেশে বললেন, ‘আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। এ স্বাধীন দেশে বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম-বর্ণের মানুষ যুগ যুগ ধরে বাস করছে।’ তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদ বুঝতে হলে মিশ্রণ ফুলের মালাকে বুঝতে হবে, যার উপাদান হচ্ছে অনেক বর্ণ, ভিন্ন সুগন্ধযুক্ত কতগুলো ফুল। ফুল দিয়ে মালা গাঁথতে হবে। ফুল মিথ্যা নয়, কিন্তু মালাটাই ‘সমগ্র’ সত্য; ফুলটা তার আংশিক পরিচয়। মালার সঙ্গে ফুলের বিরোধ নেই; কিন্তু শুধু একটি-দুটি ফুলে কি মালা হতে পারে? প্রশ্ন করতেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। একটি ফুল, দুটি ফুল, অনেক ফুলে একটি মালা।

জাতীয়তাবাদ আসলে একটি বস্তু নয়, সমগ্রভাবে একসঙ্গে জেগে ওঠার জন্য একটি অনুভূতি। এর পেছনে থাকবে একটি ভৌগোলিক পরিচয়, গণমানুষের ইতিহাস, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তন, সংস্কৃতির অভিন্ন স্রোতধারা, ভাষাগত পরিচয়, ধর্মীয় অনুভূতি। এর সঙ্গে যদি থাকে স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিচয়, তাহলে জাতিত্বের শেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যায় সেই জনগোষ্ঠী। এটাই ছিল জিয়াউর রহমানের জাতিত্বের সারকথা।

বাংলাদেশের ভূগোলের পরিচয়ে যে বৈশিষ্ট্য, সেটা স্বীকৃত। এর প্রায় সবটুকুই নরম পলিমাটি, ষড়ঋতু, নদ-নদী, খাল-বিল। গ্রীষ্মের খরতাপে দক্ষ, বর্ষার বর্ষণে সিক্ত। শরতের উদারতায় উন্মুক্ত, হেমন্তে ছলছল। বসন্তের কোকিলের কুহুতানে মুগ্ধ এবং নরম শীতের কুয়াশায় রোমান্টিক। এখানে ঝড় আসে উদ্দাম হয়ে, কালবৈশাখি রুদ্র; নদী-নালা, খাল-বিল থাকে চঞ্চল। এখানে সবুজে-সোনালিতে মাঠের পর মাঠ অপরূপ। এখানে সর্বত্র একটি অনন্য রূপ—যে ভৌগোলিক রূপ বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে অনন্য করেছে। সংগ্রামী, দেশপ্রেমিক, অনন্য চরিত্রের মানবগোষ্ঠী। এরা তীব্রভাবে দেশপ্রেমিক।

এই ভূগোল এবং ইতিহাসের বিবর্তনে গড়ে উঠেছে এ দেশের একান্ত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অর্থনৈতিক, সামাজিক রূপ—এমনকি এ দেশের মানুষের লোকচরিত্র। কৃষি এ দেশের মানুষের অস্থিমজ্জায়, স্নেহ-মমতা ঘেরা বিচিত্র এক সামাজিক পরিবেশে যুগযুগ ধরে গড়ে উঠেছে।

ধর্ম এ দেশের মানুষের একটি তীব্রতম অনুভূতি, যা জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের মানুষ চিরকাল ধর্ম সম্পর্কে দারুণভাবে সংবেদনশীল, স্পর্শকাতর। কি মুসলিম, কি হিন্দু, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান—বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ। এত ধর্মপ্রাণ মানুষ পৃথিবীর অন্য কোথাও আছে কি না এটা অনেক সমাজবিজ্ঞানীরও প্রশ্ন। বাংলাদেশে ধর্ম—বিশেষত ইসলাম—আমাদের মানুষের জীবন ও সমাজব্যবস্থার সর্বস্তরকে প্রভাবিত করেছে।

৫২’র ভাষা আন্দোলনে বিজয়ী হয়ে আমরা বাংলা ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছি। এজন্য এ দেশের ভাষা বাংলা ভাষা শুধু জাতিত্বের একটি পরিচয় নয়, বরং জীবনবোধের সঙ্গে জড়িত একটি অনুভূতি। তাই এই অনুভূতিকে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে হবে। ভাষার ওপর বা ধর্মের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয় নির্ধারণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ আমরা যারা কথা বলি বাংলা ভাষায় বা ধর্মে ইসলাম—তারা ছাড়াও এ দেশে রয়েছে বাঙালি, চাকমা, মারমা নানা ভাষাভাষীর মানুষ। ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের বসবাস, যাদের যার যার অবস্থান থেকে সামর্থ্যানুযায়ী নাগরিকদের পরিচয় সমগ্র দেশের মানুষের সমমর্যাদার কথা ভেবেই নির্ধারণ করা হয়েছে। জন্মসূত্রে প্রতিটি বাংলা ভাষাভাষী বা অন্য ভাষায় কথা বলেন এমন সকলেই ‘বাংলাদেশি’।

প্রতিটি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বিশ্বাস বজায় রেখে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেমনটি বলতেন এবং প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, ঠিক তেমনি বলছেন তার রাজনীতির বর্তমান উত্তরসূরি তারেক রহমান। প্রবীণ-নবীন বিশেষজ্ঞ মানুষের মতামত নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণের শেষে স্থির ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা এরই মধ্যে বারবার দেখিয়েছেন তারেক রহমান। সদা হাস্যোজ্জ্বল সুমিষ্ট হাসি দিয়ে রাজনৈতিক সহকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে তিনি অদ্বিতীয়।

নিন্দুকদের অপপ্রচারে তিনি কখনো বিব্রত বা ভীত হননি। ভিন্নমতের মানুষের উৎপাদনশীল ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বুদ্ধি-পরামর্শ নেওয়ার দক্ষতা রয়েছে—ঠিক তার পিতা জিয়াউর রহমান ও মাতা বেগম খালেদা জিয়ার মতোই। বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার ধৈর্য ও অভ্যাসকে তারেক রহমান দলের সকল স্তরের নেতাদের প্রতি শতভাগ পালনের রেওয়াজ চালু করেছেন। বিএনপির কোটি কোটি সমর্থকের মতামত গ্রহণ করে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নের নমুনা এরই মধ্যে তিনি বারবার দেখিয়েছেন।

সারা দেশের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনাকালে বিশিষ্টজনদের সঙ্গে কথা বলেন খোলামেলা। শুধু সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নয়, প্রতিটি স্তরের সদস্য এবং সকল সম্পাদকীয় পদে অধিষ্ঠিত নেতা—এমনকি সাংগঠনিক কোনো কমিটিতে নেই কিন্তু বিএনপির প্রতিটি মিছিল-সভায় অংশ নেন, এমনকি ঘরোয়া তর্ক-বিতর্কে অংশ নিয়ে বিএনপির কর্মসূচি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পক্ষে জোরগলায় কথা বলেন এমন সচেতন বিএনপি সমর্থকদেরও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্মান দিয়ে মতামত গ্রহণ করেন, যার প্রমাণ মেলে ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থেকে তার দেওয়া ভিডিও রেকর্ডিং বক্তব্যে।

শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরসূরি তারেক রহমান বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের দ্রুত এগিয়ে নিতে জাতীয় স্বার্থে সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করবেন, এ প্রত্যাশা তারেক সমর্থকদের। সীমান্ত সমস্যাসহ জাতীয় প্রতিটি ইস্যুতে দলমত নির্বিশেষে এক আওয়াজ তোলা বিএনপির গঠনতান্ত্রিক নীতি, যে কারণে ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিডিআর পিলখানায় সেনা কর্মকর্তা হত্যাযজ্ঞ বন্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে সরকারকে আশ্বাস দেন। যদিও অজ্ঞাত কারণে মহাজোট সরকার তখন দেশের ওই লোমহর্ষক ঘটনা বন্ধে সাংবিধানিক ছায়া সরকার নামে খ্যাত বিরোধী দল তথা বিরোধীদলীয় নেতার পরামর্শ নেননি।

আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বে দেখেছি, দেখছি। অতঃপর জনাব তারেক রহমান। যিনি স্বল্পসময়ে আধুনিক বাংলাদেশ, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে যুবসমাজকে আলোর পথ দেখিয়েছেন। আসুন একটু প্রাসঙ্গিক আলোচনা করি। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও নৈতিকতার সমন্বয়ে কর্মমুখর শিক্ষা ব্যবস্থা চালু, অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দারিদ্র্য দূরীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় সসম্মানে তুলে ধরার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নিয়ে যে জাতীয় নেতার এগিয়ে আসা দরকার, তা যেন বারবার নানামুখী টানাপোড়নে মুখ থুবড়ে পড়ছে। ফলে একজন আব্রাহাম লিংকন কিংবা একজন মাহাথির মুহাম্মদের জন্য জাতিকে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়। তবে স্বপ্নের সেই কর্মবীর তো আর আকাশ থেকে পড়বেন না এবং মাটি ফুঁড়েও উঠে আসবেন না। আমাদের মধ্য থেকেই কেউ না কেউ সেই জাতীয় বীরের মর্যাদা নিয়ে উঠে আসবেন একদিন। আমরা তার অপেক্ষায় আছি। আমরা যদি রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের মধ্যে তরুণ প্রজন্মের কাউকে বেছে নিতে চাই, তবে যে নামটি অবিসংবাদিতভাবে আসবে সেটি হচ্ছে তারেক রহমান, যিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে থাকাবস্থায় তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট।

জননেতায় পরিণত হয়েছেন, সেই দুই যুগ আগে থেকেই। যুবসমাজ ও প্রবীণ সমাজ সবার মুখেই এখন একটি উচ্চারণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমান দেশে কবে আসবেন।

বাংলাদেশিরা মনে করেন, গণমানুষই ক্ষমতার উৎস। রাজনীতি হচ্ছে অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণের মাধ্যমে মানবকল্যাণ সাধন। এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সফল করতে হলে গণমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছতে হবে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের হৃদয়ে আস্থা অর্জন করতে হবে। তাদেরকেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাদের চোখেও স্বপ্নের বাতি জ্বেলে দিতে হবে। জননেতা তারেক রহমান এরই মধ্যে একটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন। তা হলো বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে যে তৃণমূল মানুষ রয়েছে, তাদের ত্যাগের কথা, ক্ষোভের কথা, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার কথা শুনতে হবে। তাদের কথার মূল্যায়ন করতে হবে আন্তরিকতার সাথে। তবেই একজন সাধারণ মানুষ অসাধারণ বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে। তৃণমূল মানুষের চাওয়া-পাওয়া ও না পাওয়ার বেদনার ব্যথিত হৃদয়ের অনুভূতির মূল্যায়ন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তারেক রহমানকেও এগিয়ে যেতে হবে এই উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের দিকে, এবং তিনি সফল হবেন।

এ ক্ষেত্রে তাকে তথাকথিত চাটুকার-তোষামুদে বাহিনীর ছত্রছায়া থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে অত্যন্ত কৌশলে। কেননা চাটুকারদলই ভরা তরীকে ভরাডুবিতে রূপান্তরিত করে দেয় স্বার্থের হানি ঘটলেই। তাদের কাছে দেশ নয়, মানুষ নয় ব্যক্তিস্বার্থই মুখ্য বিষয়। আমাদের সংবিধানে জনগণের ইমোশনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই জনগণ কিন্তু কোট-টাই পরা শুধু ঢাকার জনগণ নন। তারা বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জিয়া চাটুকারদের নয়, খুঁজে বের করেছেন এসব সাধারণ মানুষকে। তিনি তাদের ইমোশনকে বুঝতেন বলেই ঢাকার বাইরের বাংলাদেশকে স্বচক্ষে দেখেছেন। যোগ্য মানুষ চেনার গুণ থাকতে হয় যোগ্য নেতার। যথাসময়ে যথাযোগ্য লোক খুঁজে না পেলে পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। দেশের আনাচে-কানাচে যে সকল যোগ্যলোক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন তাদেরকে খুঁজে বের করে দায়িত্ব দিলে সাফল্যের সম্ভাবনায় উজ্জ্বল হয়ে উঠবে বাংলাদেশের মুখ। স্বপ্ন সম্ভাবনার সোনালি দুয়ার খুলতে হলে ভিশন ও মিশন ঠিক করে এগুতে হবে। এ জন্য নিজেকেও কঠোর সাধনার মধ্য দিয়ে প্রস্তুত করতে হবে। জানতে হবে কী চায়? কেন চায়? কীভাবে চায়? 

আমাদের বিশ্বাস অপপ্রচারের উত্তাল সমুদ্র সাঁতরে আসা, আগুনে পুড়ে আসা জননেতা তারেক রহমান আরো খাঁটি হয়ে, আরও সম্ভাবনা নিয়ে খুব শীঘ্রই ফিরে আসবেন, মানুষের কল্যাণের জন্য, অর্থনৈতিক মুক্তি জন্য আলোকিত বাংলাদেশের জন্য। জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তি, নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত জননেতা তারেক রহমানের পারিবারিক যে ঐতিহ্য রয়েছে, যে রাজনৈতিক আদর্শ তিনি তার বাবা শহীদ জিয়ার ১৯ দফা থেকে পেয়েছেন এবং বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে যে উদারতা, সহনশীলতা ও ভালোবাসা পেয়েছেন তা থেকেই তাকে শিক্ষা নিতে হবে। তারেক রহমান অবশ্যই বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের মানুষ তার বাবাকে ভালোবেসেছেন, তার মাকেও ভালোবাসেন। সুতরাং তার কাছে বাংলাদেশের মানুষ যোগ্য নেতা চায়, ভালোবাসা চায়। চায় বাংলাদেশি মানুষের দ্রুত ভাগ্যোন্যয়নের আপসহীন মেধাবী নেতৃত্ব। অবশেষে সচেতন বাংলাদেশিরা মনে করেন, জননেতা তারেক রহমান তার ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবশ্যই পারবেন ‘স্বনির্ভর নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে।

 

আহ্বায়ক, প্রথম বাংলাদেশ

সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটি

Link copied!