× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মুহম্মদ নিজাম

প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

মেট্রোতে চুমু খাওয়া নিষেধ?

মুহম্মদ নিজাম

প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

ছবি- ভিডিও থেকে সংগৃহীত

ছবি- ভিডিও থেকে সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেট্রোরেলের ভেতরে ধারণ করা একজোড়া তরুণ-তরুণীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, তুলনামূলকভাবে কম ভিড় থাকা একটি বগিতে তারা পাশাপাশি ঘনিষ্ঠভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। এক পর্যায়ে একে অপরকে আলিঙ্গন করছেন। এ সময় আশপাশে অন্য যাত্রীরাও ছিলেন। ভিডিওটি বগির ভেতর থেকেই একজন যাত্রী গোপনে ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই এটি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং নেটদুনিয়ায় নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছেন ব্যবহারকারীরা।

লেখক মুহাম্মদ নিজাম বলছেন, পাবলিক প্লেসে রোমান্স বা ঘনিষ্ঠ আচরণ নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সামাজিক নৈতিকতার মধ্যে সুষমতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

পাঠকদের জন্য তার লেখাটি সম্পূর্ণ তুলে ধরছি:

মেট্রোতে বা বাসে আমি কোনো ছেলেকে দেখিনি, ভালোবেসে নিজের বউয়ের কপালে চুমু খাচ্ছে।
তবে প্রেমিকা বা বান্ধবীকে চুমু খেতে দেখেছি।

এই দেশে অধিকাংশ পোলাপান হাড় হা-ভাতে। 
গরিব। দুস্থ। সেক্সচুয়ালি ফ্রাস্ট্রেটেড। 

চুমু সমস্যা না মেবি। সমস্যা হইল, এই ফ্রাস্ট্রেশনটা এরা লুকাইতে পারে না। এদের জীবনে অর্জন বলতে তেমন কিছুই নাই। নিজস্ব একটা লাইফও অধিকাংশের হয় নাই। এইসব লাইফলেস পোলাপান হুট করে একটা প্রেম পেয়ে যায়... কিংবা প্রেমের নামে একটা মেয়ের সঙ্গ পেয়ে গেলে কীভাবে জিনিসটাকে হ্যান্ডেল করবে ভেবে পায় না।

আঠারো/উনিশ বছরের একটা ছেলে ও মেয়ে মেট্রোতে উঠল। দুইজনেই সবল। নিজ যোগ্যতাতেই চলতে পারে। তাও ছেলেটাকে দেখি, মেয়েটার কোমর জড়ায়ে ধরছে। হাতড়াচ্ছেন।
এর কারণ কী? অনবদমিত যৌন বাসনা? 

ছেলেটা সেক্স চায়, একান্তে মেয়েটাকে আবিষ্কার করতে চায়, মেয়েটা সেই সুযোগ দিচ্ছে না? ভুংভাং দিয়ে টাইম পাস করছে?

এইগুলা আরও একশো উপায়ে ব্যাখ্যা করা যায়। আমি শুধু একটা বললাম।

সেক্সের তীব্রতা কমে যাবার পর এই দেশের অধিকাংশ পুরুষ বৃক্ষ হয়ে যায়! প্রেম নিয়ে এরা যত ফ্যান্টাসি করে, বউ নিয়ে তার সিকিভাগও করে না।

মাথায় সেক্স নিয়ে প্রেমের অভিনয় করে যাওয়া এইসব লাইফলেস পোলাপাইনকে দেখে যথেষ্টই করুণা হয়। প্রেমিকার সাথে রোমান্স করাকে এইখানে বন্ধুরাও বীরত্বের প্রতীক হিসেবে দেখে। বউ নিয়ে দুই-লাইন কথা বললে মনে করে আধিখ্যেতা। 

ট্রেনে বা দূর-পাল্লার বাসে আমার দেখা সবচেয়ে প্রিয় দৃশ্য হচ্ছে, স্বামীর কাধে মাথা রেখে ক্লান্ত স্ত্রীর বিশ্রাম নেওয়া। চোখের শান্তি।

আমার দেখা সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য হচ্ছে, হঠাৎই একটা উঠতি তরুণী বা যুবতীর মালিকানা পেয়েও সেক্স না-পেয়ে ভেতরে ভেতরে হা-হুতাশ করতে থাকা একটা অতৃপ্ত যুবকের হাত...

‘বেগানা পুষ্প’ এবং ‘নর্তকী ও পুঁজিপতি শাসিত এই ব্রোথেল পৃথিবীতে’ নামে দুইটা উপন্যাসে আমি এদের কথা লিখেছি। নর্তকী পড়ার পর একজন রিভিউ করেছিল এইভাবে—
‘এই লেখক সেক্সচুয়ালি ফ্রাস্ট্রেটেড। ওরে কেউ সেক্স দাও...’ গল্পগুলো অনেস্ট ছিল। রিভিউগুলোও হয়তো!

শেষ করার আগে পুরোনো প্রশ্নে ফিরে যাই। মেট্রোতে বা বাসে বা ট্রেনে বা চুমু খাওয়া নিষেধ? পাবলিক প্লেসে জড়াজড়ি?

উত্তর প্রত্যেকের ভিন্নই হবে। আমার উত্তর হইল, কক্সবাজারের সি-সিচে যে রংচঙে হাফ-প্যান্ট পরে আমি ঘুরে বেড়াই, সেই জিনিস পরে মহল্লার রাস্তায় হাঁটতে বের হই না। অসভ্য লাগে। যদিও দুইটাই পাবলিক প্লেস!

লেখক : কথাসাহিত্যিক, শিক্ষক

Link copied!