× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শিপন আহমদ (সিডনি) অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

পোস্টাল ব্যালট ও গণভোট নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীরা

শিপন আহমদ (সিডনি) অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। অস্ট্রেলিয়াতে বসবাসরত প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশি ভোটাররা রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ করেন। ইতোমধ্যে অনেকের নিজস্ব ঠিকানায় পৌছেছে তাদের পোস্টাল ব্যালট পেপার। প্রবাসীদের জন্য প্রথমবারের মতো চালু হওয়া পোস্টাল ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে যুক্ত গণভোট প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ।

প্রবাসীদের নিজস্ব ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পেপার পাঠানো, গ্রহণ ও ফেরত দেওয়ার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং ভোটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টাল ব্যালট পেপারের ভিডিও নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোতে জামায়াত নেতার বাসায় থাকা কয়েকশত প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট পেপারের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে অন্যান্য দেশে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া। 

রাজনৈতিক দল জামায়াতের নেতার বাসায় পোস্টাল ব্যালট পেপার কীভাবে যায় এ নিয়ে সাধারণ প্রবাসী ভোটাররা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপি হওয়ার সম্ভাবনার অাশংঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য একাধিক প্রবাসী ভোটারদের।

একাধিক প্রবাসী ভোটারা অভিযোগের শুরে জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য একসঙ্গে ১১৮টি প্রতীক এবং পাশাপাশি গণভোটের প্রশ্ন যুক্ত থাকায় ব্যালট জটিল হয়ে পড়েছে। এতে ভুল ভোট দেওয়া বা ভোট বাতিল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা, যার ফলে পোস্টাল ব্যালট ও গণ ভোট নিয়ে অস্টেলিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটি, সোস্যাল মিডিয়াসহ প্রবাসীদের মধ্যে বিরাজ করছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সিডনির বাসিন্দা রুহেল অাহমদ নামের এক ভোটার বলেন, ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে। কিন্তু ব্যালট যদি হারিয়ে যায় বা ভুল হয়ে যায়, তাহলে আমার ভোটের মূল্য থাকবে না। এ ছাড়া ব্যালটে ১১৮টি প্রতিক থাকায় সমস্ত প্রক্রিয়াটাই জটিল মনে হচ্ছ। নাজমিন নামীয় এক নারী ভোটার জানান, রেজিস্ট্রেশন করেছি, কিন্তু ব্যালট কোথায় যাচ্ছে, কে গ্রহণ করছে, এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা নেই।

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হায়দার অালী পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পোস্টাল ভোট একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। আমরা এটিকে সাধুবাদ জানাই। তবে প্রভাব ও অনিয়ম থেকে দূরে থেকে সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যালট পূরণ ও প্রেরণ করতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ভয় বা বিভ্রান্তির শিকার না হয়ে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করা জন্য  নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তবে অস্ট্রেলিয়ার বিএনপি পোস্টাল ভোটের পক্ষে জনমত সৃষ্টি ও সাধুবাদ জানালেও বতমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক হালচাল ও প্রশাসনের নিবার্চনকালিন প্ররিস্থিতি বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ও অঙ্গ সংগঠনের একাধিক নেতারা তাদের মতে, পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে কোনো একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা জামায়াত যদি সংগঠিতভাবে ব্যালট সংগ্রহ বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, তাহলে তা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি হবে। এই উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে বাহরাইনে একটি রাজনৈতিক দলের নেতার বাসা থেকে পোস্টাল ব্যালট পেপার পাওয়ার অভিযোগের ঘটনায়। যদিও বিষয়টি তদন্তাধীন, তবে এতে ব্যালটের হেফাজত ও ভোটারের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি আইনজীবী ড. মো. সিরাজুল হক বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে মনগড়াভাবে পরিচালনা করা যায় না। আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। গণভোটের নামে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার বা তা বিকৃত করার পাঁয়তারা চলছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভিত্তি, এটি গণভোটের বিষয় হতে পারে না। ইতিহাস বদলানোর কোনো চেষ্টা হলে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিসহ জনগণ তা প্রতিহত করবে।

নির্বাচন ও আইন বিশ্লেষকদের মতে, পোস্টাল ভোট ও গণভোট একসঙ্গে চালু হওয়ায় প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রসারিত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা। ১১৮ প্রতীক, ব্যালটের দুর্বল হেফাজত, আন্তর্জাতিক পরিসরে ওঠা অভিযোগ এবং ইতিহাস পুনর্লিখনের আশঙ্কা মিলিয়ে প্রশ্নটি এখন আর শুধু প্রবাসী ভোটের নয়। প্রশ্ন  হলো এই প্রক্রিয়াগুলো কি সত্যিই জনগণের ক্ষমতা বাড়াচ্ছে, নাকি ভোটের নামে নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রিত রাজনীতির ভিত্তি গড়ে তুলছে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে পোস্টাল ভোট ও গণভোট ভবিষ্যতের গণতন্ত্রের অংশ হবে, না আরেকটি বিতর্কিত অধ্যায় হয়ে ইতিহাসে যুক্ত হবে এমন ধারণা সচেতন মহলের।

বিজ্ঞজনদের মতে, রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা, কার্যকর তদারকি এবং ব্যালট ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করলেই কেবল পোস্টাল ভোট ও গণভোটের প্রতি আস্থা তৈরি হবে মত প্রকাশ।

Link copied!