চলমান ভিসা-সংক্রান্ত নানা জটিলতার মধ্যেই নতুন উদ্বেগে পড়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা। ছুটিতে দেশে আসার পর অনেকের রেসিডেন্স ভিসা আকস্মিকভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। চাকরি ও ব্যবসা হারানোর শঙ্কায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন অনেক প্রবাসী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের আগাম নোটিশ বা কারণ না জানিয়েই তাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। অনেকেই অনলাইনে ভিসার অবস্থা যাচাই করতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা ভিসা বাতিলের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি বলে দাবি করেছেন কয়েকজন প্রবাসী।
দুবাইপ্রবাসী আরমান হোসেন বলেন, গত ২০ জুন ছুটিতে দেশে এসেছি। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে কর্মস্থলে ফেরার কথা। অনেকের ভিসা বাতিল হওয়ার খবর শুনে অনলাইনে যাচাই করে দেখি, আমার ভিসাটিও বাতিল হয়ে গেছে। এখন কর্মস্থলে ফিরতে পারব কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি।
শারজাহপ্রবাসী মো. ইমন বলেন, দীর্ঘদিন পর আমার পুত্রসন্তান হয়েছে। সেই আনন্দে দেশে এসেছিলাম। কিছুদিন পরই আমিরাতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু অনলাইনে দেখি, আমার ভিসা বাতিল হয়ে গেছে। কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, তাদের পক্ষ থেকে কোনো বাতিলের আবেদন করা হয়নি। আমার পরিচিত আরও কয়েকজনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।
রাস আল খাইমাহপ্রবাসী প্রকৌশলী এস এম করিমও পরিবার নিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, সন্তানদের স্কুলের ছুটিতে দেশে এসেছি। এখন ভিসা বাতিলের খবর শুনে দুশ্চিন্তায় আছি। দ্রুত ফিরতে চাইলে বিমানের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ ফ্লাইটে আসন নেই। যেগুলোতে আসন আছে, সেখানে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
প্রবাসীদের অভিযোগ, ভিসা বাতিলের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইউএইর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আগাম বার্তা বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে কেন এমন হচ্ছে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রেসিডেন্স ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ পরিস্থিতিতে দেশে আটকে পড়া প্রবাসীরা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরি, ব্যবসা এবং বৈধ আবাসনের সুযোগ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে করে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার হিসেবে পরিচিত এই গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারটি ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সরকারও হারাতে পারে বিপুল অঙ্কের রেমিট্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ এই উৎস।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন