রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের এক বিশেষ সুযোগ। তবে এই ইবাদত পালনের সময় ওষুধ বা চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে চোখের ড্রপ, ইনজেকশন বা ইনসুলিন গ্রহণ করলে রোজা ভেঙে যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় কাজ করে।
ইসলামি স্কলার এবং চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত মতামতের ভিত্তিতে এই বিষয়ের সঠিক তথ্যগুলো তুলে ধরা হলো:
১. চোখের ড্রপ ও কানের ড্রপ
মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন এবং আন্তর্জাতিক গ্লুকোমা সমিতির যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, রোজা রেখে চোখের ড্রপ বা কানের ড্রপ ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বৈধ। বিশ্বজুড়ে ইসলামি চিন্তাবিদগণ একমত যে, এসব ড্রপ ব্যবহারে রোজা নষ্ট হয় না। কারণ, এগুলো সরাসরি পাকস্থলী বা মস্তিষ্কে পৌঁছায় না।
২. ইনজেকশন ও ইনসুলিন গ্রহণ
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিন বা সাধারণ অসুস্থতায় ইনজেকশন নেওয়া নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় থাকেন। তবে আধুনিক মাসালা অনুযায়ী:
ইনসুলিন: ইনসুলিন গ্রহণ করলে রোজা ভাঙবে না, কারণ এটি কোনো খাদ্য বা পুষ্টি নয় যা পাকস্থলীতে প্রবেশ করে ক্ষুধা নিবারণ করে।
ইনজেকশন: মাংসপেশিতে বা চামড়ার নিচে দেওয়া ইনজেকশনে রোজা নষ্ট হয় না। যেহেতু এটি সরাসরি পাকস্থলী বা মস্তিষ্কে খাদ্য হিসেবে প্রবেশ করছে না, তাই এটি রোজার কোনো ক্ষতি করে না।
৩. রোজা কখন ভাঙে?
রোজার মৌলিক বিধান হলো—যদি কোনো খাদ্যদ্রব্য বা ওষুধ সরাসরি পাকস্থলী বা মস্তিষ্কে প্রবেশ করে, তবেই রোজা ভেঙে যাবে। মুখ দিয়ে সেবন করা ওষুধ বা পানীয় তাই রোজার সময় নিষিদ্ধ। এই ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ সেহরি ও ইফতারের মধ্যবর্তী সময়ে গ্রহণ করতে হবে।
৪. অসুস্থ ব্যক্তির জন্য বিশেষ ছাড়
ইসলাম ধর্ম অত্যন্ত সহজ ও মানবিক। অসুস্থ ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা নারী, অত্যন্ত দুর্বল ব্যক্তি বা মুসাফিরদের (ভ্রমণকারী) জন্য রোজা রাখার বাধ্যবাধকতায় শিথিলতা রয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় রোজা রাখা বা না রাখার সিদ্ধান্ত অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া উচিত।
রোজা রেখে চোখ বা কানের ড্রপ, ইনসুলিন এবং ইনজেকশন নিতে কোনো বাধা নেই। এ নিয়ে অহেতুক সংশয়ের অবকাশ নেই। মহান আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে সব আমল সম্পন্ন করার তৌফিক দান করুন।


