× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম

আশুরার দিনে যে দোয়া পড়বেন

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

আল্লাহ তাআলা যে চার মাসে যুদ্ধবিগ্রহ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছেন, যে মাসগুলোকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেছেন, মহররম তার অন্যতম। এটি হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস। মহররম মাসের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। আশুরার দিনে অনেক নবীর দোয়া কবুল করেছেন আল্লাহ তাআলা। তাই এ দিন দোয়া কবুলের দিন।

ইসলামি শরিয়তের মানদণ্ডে আশুরার অনেক তাৎপর্য ও ফজিলত রয়েছে। এ ছাড়া আশুরায় বেশ কিছু করণীয় কাজও আছে। জাহেলিয়া যুগে প্রাচীন আরবদের মধ্যে গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হতো এই দিনটি।

আশুরার দিন মক্কার মানুষ রোজা রাখত এবং কাবাঘরের গিলাফ পরিবর্তন করত। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দিনে রোজা রাখেন এবং অন্যদের রোজা রাখার উৎসাহ ও নির্দেশ দেন। এ ছাড়া রমজানের রোজার আগে আশুরার রোজা ফরজ ছিল। রমজানের রোজা ফরজ হলে আশুরার রোজা মুস্তাহাব পর্যায়ের ঐচ্ছিক ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়।

তওবা কবুল হওয়া এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তি, নিরাপত্তা এবং সাহায্য লাভ করার ইতিহাসজুড়ে আছে মহররম মাসের সঙ্গে। হজরত আলি (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, রমজানের পর আপনি কোন মাসে রোজা রাখতে নির্দেশ দেন?

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি যদি রমজানের পর রোজা রাখতে চাও, তাহলে মহররমে রোজা রেখো। কেননা, মহররম আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা (অতীতে) অনেকের তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অনেকের তওবা কবুল করবেন।’ (জামে তিরমিজি: ৭৪১)

এক হাদিসে নবীজি বলেছেন, ‘মহররম হচ্ছে আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন এক দিন (আশুরা) আছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা (অতীতে) অনেকের তওবা কবুল করেছেন। ভবিষ্যতেও অনেকের তওবা কবুল করবেন।’ (জামে তিরমিজি: ৭৪১)

আমাদের উচিত হবে আশুরার দিনে আন্তরিক তওবা করা। তওবার দোয়াগুলো যথাযথভাবে পাঠ করা। তওবার বিভিন্ন দোয়ার উল্লেখ রয়েছে হাদিসে। এমনকি কিতাবে আশুরার দিনের একটি দোয়াও পাওয়া যায়।

দোয়া: اللَّهُمَّ يَا قَابِلَ تَوْبَةِ آدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَيَا مُسْكِنَ سَفِينَةِ نُوحٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ عَلَى الْجُودِيِّ يَوْمَ عَاشُورَاءَ. وَيَا غِيَاثَ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَيَا فَارِجَ كُرْبَةِ ذِي النُّونِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ. وَيَا غَافِرَ ذُنُوبِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ. وَيَا جَامِعَ دَعْوَةِ مُوسَى وَهَارُونَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ. وَيَا خَالِقَ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ وَعَزْرَائِيلَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ. وَيَا خَالِقَ الْعَرْشِ وَالْكُرْسِيِّ وَاللَّوْحِ وَالْقَلَمِ وَالسَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ اقْضِ حَوَائِجَنَا وَحَوَائِجَ جَمِيعِ الْمُسْلِمِينَ وَيَا قَاضِيَ الْحَاجَاتِ وَيَا دَافِعَ السَّيِّئَاتِ. وَيَا حَيُّ يَا قَيُّومُ. يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ. وَيَا مَالِكَ يَوْمِ الدِّينِ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ تَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ وَأَلْحِقْنَا بِالصَّالِحِينَ. وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ. سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইয়া কাবিলা তাওবাতা আদামা আলাইহিস সালাম ইয়াওমা আশুরাআ, ওয়া ইয়া মুসকিনা সাফিনাতি নূহিন আলাইহিস সালাম আলাল জুদিয়্যি ইয়াওমা আশুরাআ। ওয়া ইয়া গিয়াসা ইবরাহিমা আলাইহিস সালাম ইয়াওমা আশুরাআ। ওয়া ইয়া ফারিজা কুরবাতি জিন নূনি ইয়াওমা আশুরাআ। ওয়া ইয়া গাফিরা জুনুবি দাউদা আলাইহিস সালাম ইয়াওমা আশুরাআ। ওয়া ইয়া জামিয়া দাওয়াতি মুসা ওয়া হারুন আলাইহিমাস সালাম ইয়াওমা আশুরাআ। ওয়া ইয়া খালিকা জিবরিলা ওয়া মিকাইলা ওয়া ইসরাফিলা ওয়া আজরাইলা ইয়াওমা আশুরাআ। ওয়া ইয়া খালিকাল আরশি ওয়াল কুরসিয়্যি ওয়াল লাওহি ওয়াল কলমি ওয়াস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ইয়াওমা আশুরাআ। ইকদি হাওয়াইজানা ওয়া হাওয়াইজা জামিইল মুসলিমিন। ওয়া ইয়া কাজিয়াল হাজাত, ওয়া ইয়া দাফিয়াস সাইয়্যাত। ওয়া ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম। ইয়া জাল-জালালি ওয়াল ইকরাম। ওয়া ইয়া মালিকা ইয়াওমিদ-দিন। ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাঈন। ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকিম। সিরাতাল্লাজিনা আনআমতা আলাইহিম। গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দল্লিন। তাওয়াফফানা মুসলিমিনা ওয়া আলহিকনা বিস সালিহিন। ওয়া সাল্লাল্লাহু আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানা রব্বিকা রব্বিল ইজ্জাতি আম্মা ইয়াসিফুন। ওয়া সালামুন আলাল মুরসালিন। ওয়াল হামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন।

অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আশুরার দিনে আদম (আ.)-এর তওবা কবুলকারী, আশুরার দিনে জুদি পর্বতে নূহ (আ.)-এর নৌকা স্থাপনকারী। হে আশুরার দিনে ইবরাহিম (আ.)-কে মুক্তিদানকারী। হে আশুরার দিনে যুন-নূন (আ.)-এর কষ্ট দূরকারী। হে আশুরার দিনে দাউদ (আ.)-এর গুনাহ ক্ষমাকারী। হে আশুরার দিনে মুসা (আ.) ও হারুন (আ.)-এর দোয়া কবুলকারী। হে আশুরার দিনে জিবরাইল, মিকাইল, ইসরাফিল ও আজরাইলের সৃষ্টিকর্তা। হে আরশ, কুরসি, লাওহ, কলম, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা! আশুরার দিনে আমাদের এবং সকল মুসলমানের প্রয়োজন পূরণ করুন। হে প্রয়োজন পূরণকারী, হে অকল্যাণ প্রতিরোধকারী। হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী। হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী। হে বিচার দিবসের মালিক। একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন; তাদের পথ, যাদের আপনি নিয়ামত দান করেছেন; তাদের পথ নয়, যাদের ওপর আপনার গজব নাজিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। আমাদের মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। মহিমাময় প্রতিপালক, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আপনি পবিত্র। শান্তি বর্ষিত হোক সকল রাসুলের ওপর এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।

এ ছাড়াও তওবার আরও যে দোয়াগুলো আছে, সেগুলো পড়া যেতে পারে।

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظِيمَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىَّ الْقَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লাহাল আজিমাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতূবু ইলাইহি।

অর্থ: মহান আল্লাহর কাছে আমি ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং আমি তাঁর কাছে তাওবা করি।

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি এই দোয়া পড়ে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যদিও সে রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে থাকে। (তিরমিজি: ৩৫৭৭)

ﺭَﺏِّ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲْ ﻭَﺗُﺐْ ﻋَﻠَﻲَّ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃﻧْﺖَ ﺍﻟﺘَّﻮَّﺍﺏُ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴْﻢُ উচ্চারণ: রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়া, ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রহিম।

অর্থ: (হে আমার) রব! আমাকে মাফ করুন; আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়াময়।

ইবনু উমার (রা.) বলেন, আমরা গুণে দেখতাম যে, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই মজলিসে দোয়াটি ১০০ বার পর্যন্ত পাঠ করতেন। (তিরমিজি: ৩৪৩৪, আবু দাউদ: ১৫১৬)

سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতূবু ইলাইহি।

অর্থ: আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তাওবা করছি।

আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর আগে এই ইস্তিগফারটি অধিক মাত্রায় পড়তেন। (মুসলিম, রিয়াদুস সালেহিন: ১৮৮৬)

أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতূবু ইলাইহি।

অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং তাঁর নিকট তাওবা করছি।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে আর কাউকে এটি অধিক পরিমাণে পড়তে দেখিনি। (সহিহ ইবনু হিব্বান: ৯২৮)

Link copied!