ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

এক জুমা থেকে অন্য জুমা পর্যন্ত যে আমলে গুনাহ কাফ্ফারা হয়

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫, ০৯:৪৬ এএম
জুমার নামাজ। ছবি - সংগৃহীত

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, উত্তম পোশাক পরিধান করে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করেযদি তার নিকট থাকে। এরপর সে জুমার নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে আসে এবং অন্য মুসল্লিদের গায়ের ওপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে অগ্রসর হয় না। ফরজ নামাজ আদায় করার পর ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার সময় থেকে নামাজের সালাম পর্যন্ত সম্পূর্ণ নীরব থাকে। এমন ব্যক্তির এই আমল পূর্ববর্তী জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সংঘটিত সমস্ত সগিরা গুনাহের কাফ্ফারা হয়ে যায়। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৩)

জুমাবার হলো সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন। এই দিনের গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে সহিহ হাদিস গ্রন্থসমূহে একাধিক বর্ণনা পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, জুমার দিন হলো দিবসসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং এটি আল্লাহতায়ালার নিকট সবচেয়ে সম্মানিত দিন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৮৪)

এই মর্যাদাপূর্ণ দিনে কিছু বিশেষ আমল রয়েছে, যেগুলো পালন করলে বান্দা আল্লাহতায়ালার বিশেষ নৈকট্য ও রহমত লাভ করে। জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো গোসল করা, যা শরীর ও আত্মাকে পবিত্র করে। পাশাপাশি সাধ্য অনুযায়ী পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত, যা মুসল্লিদের জন্য স্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

জুমার নামাজের সময় খুতবা মনোযোগসহকারে শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুতবার সময় কথা বলা, ইশারা করা বা অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, খুতবা শোনা জুমার নামাজের একটি অপরিহার্য অংশ।

জুমার দিনে যত দ্রুত সম্ভব মসজিদে গমন করা ফজিলতপূর্ণ আমল। এ বিষয়ে আল্লাহতায়ালা কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বোঝো।’ (সুরা জুমা, আয়াত : ৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং আগমনকারীদের নাম আগমনের ক্রমানুসারে লিখতে থাকেন। যে ব্যক্তি সবার আগে আসে, সে যেন একটি মোটাতাজা উট কোরবানি করল। এরপর আগমনকারী গাভি কোরবানি করল, তারপর মুরগিদানকারীর ন্যায় সওয়াব পায়। ইমাম যখন খুতবার জন্য বের হন, তখন ফেরেশতারা তাদের লেখা বন্ধ করে খুতবা শোনায় মনোযোগ দেন। (বুখারি, হাদিস : ৯২৯)

জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা। এ সম্পর্কে আবু সাঈদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত নূর আলোকিত করে দেওয়া হবে। (আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইল, হাদিস : ৯৫২)

এদিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। নবী মোহাম্মদ বলেন, জুমার দিন হলো সর্বোত্তম দিন। এই দিনেই হজরত আদম (আ.) সৃষ্টি ও ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনেই শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং সব সৃষ্টি বেহুঁশ হয়ে পড়বে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কেননা তোমাদের দরুদ আমার নিকট পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

জুমার দিনে দোয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনের মধ্যে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহতায়ালার নিকট যা কিছু দোয়া করে, আল্লাহতায়ালা তা কবুল করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

সুতরাং জুমার দিন হলো ক্ষমা লাভ, নেকি অর্জন এবং আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভের এক মহামূল্যবান সুযোগ। আমাদের উচিত এই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত যথাযথভাবে কাজে লাগানো এবং সুন্নত অনুযায়ী আমল করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে জুমার দিনের পূর্ণ ফজিলত অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।