সপ্তাহজুড়ে ক্লান্তির পর যখন জুমার সকাল আসে, তখন মুমিনের হৃদয়ে নেমে আসে এক অপার্থিব শান্তি। এদিনটি শুধু আরেকটি দিন নয়—এদিন রহমতের, ক্ষমার, নৈকট্যের। এদিনে আকাশে ফেরেশতাদের আনাগোনা বাড়ে, দোয়ার দরজা খুলে যায় আর বান্দার একটি ছোট আমলও হয়ে ওঠে অসীম মর্যাদার।
এই পবিত্র দিনে এমন এক আমল আছে, যা উচ্চারিত হলেই তা পৌঁছে যায় সরাসরি আমাদের প্রাণের নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে। কী সৌভাগ্য, কী ভালোবাসার বন্ধন! সেই মহামূল্যবান আমলটি কী, যা জুমার দিনকে করে তোলে আরও আলোয় ভরা, আরও অর্থবহ—চলুন জেনে নিই।
নবী করিম (সা.) জুমার দিনকে সপ্তাহের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই দিনের মর্যাদা ও ফজিলত তুলে ধরে তিনি একটি বিশেষ আমল বেশি বেশি করার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন। সেই আমলটি হলো—নবীজির প্রতি দরুদ পাঠ। কারণ, জুমার দিনে পাঠ করা দরুদ সরাসরি তাঁর কাছে উপস্থাপন করা হয় বলে তিনি নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা অনুযায়ী এ আমল করার মাধ্যমে মুমিনের ঈমানের পরিপূর্ণতা প্রকাশ পায়। আল্লাহতায়ালা কোরআনুল কারিমে স্পষ্টভাবে নবীজির প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন।
কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ ও যথাযথভাবে সালাম পাঠ করো।’ (সুরা আহজাব: ৫৬)
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার দিনের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, এই দিনেই হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। তাই তিনি জুমার দিনে তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
হাদিসে এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, জুমা তোমাদের জন্য সর্বোত্তম দিন। সুতরাং এদিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ, তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার ইন্তেকালের পর আমাদের দরুদ কীভাবে আপনার কাছে পৌঁছানো হবে? তিনি বললেন, ‘আল্লাহতায়ালা নবীদের দেহ ভক্ষণ করা জমিনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
শুধু জুমার দিন নয়, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরুদ পাঠ না করাকে তিনি কৃপণতার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নবীপ্রেমের প্রমাণ হলো—সর্বদা তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করা।
এ বিষয়ে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস স্মরণযোগ্য—
১. নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘প্রকৃত কৃপণ সেই ব্যক্তি, যার সামনে আমার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে আমার প্রতি দরুদ পাঠ করল না।’ (ইবনে মাজাহ)
২. তিনি আরও বলেন, ‘যে মজলিসে আল্লাহর জিকির করা হয় না এবং নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করা হয় নাম, সে মজলিস সংশ্লিষ্টদের জন্য আফসোসের কারণ হবে। আল্লাহ চাইলে তাদের শাস্তি দিতে পারেন, চাইলে ক্ষমাও করতে পারেন।’ (তিরমিজি)
সুতরাং একজন মুমিন মুসলমানের উচিত, সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন জুমাকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠের মাধ্যমে সুশোভিত করা এবং নিজের আমল ও ঈমানকে পরিপূর্ণ করার চেষ্টা করা।
আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অধিক হারে দরুদ পাঠ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।



