মুসলমানদের জন্য জুমার দিন এক বিশেষ সাপ্তাহিক ঈদের মতো। এই দিনে তারা মসজিদে একত্র হয়ে নামাজ আদায় করেন, পরস্পরের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ইমান ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। কোরআন ও হাদিসে জুমার দিনের মাহাত্ম্যের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
সহিহ মুসলিম ও মুসনাদে আহমদ হাদিস অনুযায়ী, সূর্য উদিত হওয়া সমস্ত দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। এই দিনই আদম আলাইহিসসালামকে সৃষ্টি করা হয়েছিল, জুমনে প্রবেশ করানো হয়েছিল এবং কিয়ামতও সংঘটিত হবে এ দিনে।
হাদিসে উল্লেখ আছে, জুমার দিনে আসরের নামাজের পর একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যাকে হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বোঝানো হয়েছিল। এ সময় যে কোনো মুসলিম বান্দা যদি আল্লাহর কাছে দোয়া করে, তবে আল্লাহ তা কবুল করেন। মুহাদ্দিসদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এটি আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত সময়টি হতে পারে।
তবে জুমার দিনে দোয়া করার আরও একটি বিশেষ উপায় রয়েছে। আসরের নামাজের পর ৮০ বার নিচের দোয়াটি পড়লে আল্লাহতায়ালা জীবনের ছোট গুনাহ মাফ করে দেন।
আরবি উচ্চারণ:
اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِهِ وَسَلِّم تَسْلِيْمَا
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লিম তাসলিমা
হাদিস বিশারদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ৮০ বছরের বয়স পূর্ণ না হলেও আল্লাহতায়ালা সেই ব্যক্তির জীবনের অন্যান্য ছোট গুনাহ মাফ করে দেন। যদি কারও গুনাহ না থাকে, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য দোয়া ও ইবাদতের জন্য বিশেষ সুযোগ। আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টি সবচেয়ে শুভ, যেখানে বান্দা আল্লাহর কাছে যে কোনো প্রার্থনা করতে পারেন এবং আল্লাহ তা কবুল করেন।


