জুমার দিনের গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম। ‘জুমা’ শব্দটি আরবি ‘জমা’ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ একত্র হওয়া বা সমবেত হওয়া। এ দিনে আগেভাগে মসজিদে গেলে রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও পুরস্কারের ঘোষণা।
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে-জুমার খুতবা না শুনলে কি গুনাহ হবে?
ফুকাহায়ে কেরামের মতে, জুমার নামাজ আদায় হওয়ার জন্য খুতবা প্রদান শর্ত। তবে কোনো মুসল্লি খুতবা না শুনলেও তার জুমার নামাজ বাতিল হয়ে যায় না। অর্থাৎ খুতবা না শোনার কারণে নামাজ শুদ্ধ না হওয়ার কোনো বিষয় নেই। তবে বিনা প্রয়োজনে খুতবা এড়িয়ে যাওয়া বা দেরি করা অনুচিত।
ইসলামি নির্দেশনা অনুযায়ী, আজানের পর দুনিয়াবি কাজে ব্যস্ত না থেকে দ্রুত মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজ ও খুতবা শোনার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে মুমিনগণ, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করো।” (সুরা জুমা: ৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “জুমার দিন সপ্তাহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন এবং আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত।” (ইবনে মাজাহ: ১০৮৪)
হাদিসে আরও এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, প্রথম দিকে মসজিদে যায়, হেঁটে আসে, ইমামের কাছাকাছি বসে এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে-তার প্রতিটি পদক্ষেপে এক বছরের নফল রোজা ও নামাজের সওয়াব লেখা হয়। (আবু দাউদ: ৩৪৫)
অন্য এক হাদিসে বলা হয়েছে, জুমার দিনে ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে আগমনকারীদের নাম পর্যায়ক্রমে লিখে রাখেন। পরে ইমাম খুতবা শুরু করলে তারা দফতর বন্ধ করে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনেন। (বুখারি: ৮৮২)



