ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আল্লাহর ভয়ে অশ্রু বিসর্জনের অবিশ্বাস্য ফজিলত

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১০:০২ এএম
আল্লাহর ভয়ে অশ্রু বিসর্জন। ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী জীবনদর্শনে আল্লাহর ভয়ে বা তাঁর ভালোবাসায় অশ্রু বিসর্জন দেওয়া কেবল একটি আবেগ নয়, বরং এটি একটি অতি উচ্চমানের ইবাদত। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় বান্দার এই নীরব কান্নার অশেষ সওয়াব ও মর্যাদার কথা বর্ণিত হয়েছে।

হাদিসের আলোতে চোখের পানির মর্যাদা
রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বেশ কিছু হাদিসে চোখের পানির গুরুত্ব উঠে এসেছে। একটি বিখ্যাত হাদিসে বলা হয়েছে: “দুটি চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না; একটি হলো আল্লাহর ভয়ে যে চোখ অশ্রু বিসর্জন দেয়, আর অন্যটি হলো আল্লাহর পথে (সীমান্তে) পাহারা দিয়ে যে চোখ বিনিদ্র রজনী কাটায়।” -(তিরমিজি)

অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, কিয়ামতের কঠিন দিনে যখন আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না, তখন যে সাত শ্রেণির মানুষ সেই ছায়ায় আশ্রয় পাবে, তাদের মধ্যে একজন হলো- “যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার দুই চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়।”

কেন এই চোখের পানি এত প্রিয়?
আল্লাহর কাছে চোখের পানি প্রিয় হওয়ার বেশ কিছু আধ্যাত্মিক কারণ রয়েছে:

অহংকার মুক্তি: কান্নার মাধ্যমে মানুষের অন্তরের অহংকার ধুয়ে যায় এবং আল্লাহর সামনে নিজের অসহায়ত্ব ও দাসত্ব প্রকাশ পায়।

তওবা কবুলের মাধ্যম: বান্দা যখন অনুতপ্ত হয়ে চোখের পানি ফেলে তওবা করে, তখন আল্লাহ তার বিগত জীবনের বড় বড় গুনাহ মাফ করে দেন।

হৃদয়ের কোমলতা: নিয়মিত আল্লাহর স্মরণে কাঁদলে মানুষের অন্তর নরম হয়, যা তাকে পাপাচার থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

আল্লাহর সন্তুষ্টির কান্না
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, সব কান্না আল্লাহর কাছে প্রিয় নয়। দুনিয়াবি কোনো ক্ষতির জন্য হাহুতাশ করার চেয়ে আল্লাহর ভয়, জান্নাতের আশা এবং জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার আকুতি নিয়ে যে অশ্রু ঝরে, তার মূল্য আল্লাহর কাছে অপরিসীম। এমনকি এক ফোঁটা অশ্রু যদি মাছির মাথার সমানও হয়, তবুও তা জাহান্নামের আগুন নেভানোর জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

ব্যস্ত এই নাগরিক জীবনে মানুষের হৃদয় যখন কঠোর হয়ে পড়ছে, তখন নির্জনে আল্লাহর সামনে দু’ ফোঁটা চোখের পানি হতে পারে আত্মিক প্রশান্তির শ্রেষ্ঠ দাওয়াই। তাই নিজের পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর রহমত কামনায় অশ্রু বিসর্জন দেওয়া প্রতিটি মুমিনের অভ্যাসে পরিণত করা উচিত।