নামাজ ইসলামের প্রধান স্তম্ভ। অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নামাজ আদায় করলেও অনেক সময় মনোযোগ বিচ্যুতি বা শয়তানের প্ররোচনায় রাকাত সংখ্যা ভুলে যাওয়া বা নামাজের ওয়াজিব আমল ছুটে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায়ই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ইসলামি ফিকহ শাস্ত্র অনুযায়ী, নামাজে ভুল করলে করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
নামাজে রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হওয়া বা কোনো ভুল করা মানুষের সহজাত। তবে ইসলামি শরিয়তে এর সুনির্দিষ্ট সমাধান ও বিধান রয়েছে।
রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হলে করণীয়
নামাজরত অবস্থায় কত রাকাত পড়েছেন তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে দুটি পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সমাধান দিতে হবে:
১. যদি কালেভদ্রে বা হঠাৎ এমন হয়: যদি কারো জীবনে এমন ভুল খুব কম হয়, তবে তাকে নতুন করে নামাজ পড়তে হবে।
২. যদি নিয়মিত এমন ভুল হয়: যদি কারো প্রায়ই রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হয়, তবে তার জন্য নিয়ম হলো—
কম সংখ্যাটি গ্রহণ করা: আপনার যদি মনে হয় ৩ রাকাত বা ৪ রাকাত পড়েছেন, তবে ৩ রাকাতই ধরবেন। অর্থাৎ, যেটি নিশ্চিত (কমটি), সেটি ধরে বাকি নামাজ শেষ করবেন।
সাহু সিজদা দেওয়া: এই সন্দেহের বশবর্তী হয়ে নামাজ পড়লে শেষ বৈঠকে ‘সাহু সিজদা’ দেওয়া ওয়াজিব।
সাহু সিজদা কী এবং কখন দিতে হয়?
নামাজের কোনো ওয়াজিব ভুলবশত ছুটে গেলে বা রাকাত সংখ্যায় কম-বেশি হলে নামাজের শেষে যে অতিরিক্ত দুটি সিজদা দেওয়া হয়, তাকেই 'সাহু সিজদা' বলে। এটি দিলে নামাজের ত্রুটি পূরণ হয়ে যায়।
সাহু সিজদা দেওয়ার নিয়ম:
শেষ বৈঠকে ‘আত্তাহিয়্যাতু’ পড়ার পর শুধুমাত্র ডান দিকে সালাম ফেরাতে হবে।
এরপর পরপর দুটি সিজদা দিতে হবে।
সিজদা থেকে উঠে পুনরায় আত্তাহিয়্যাতু, দুরুদ শরিফ ও দোয়া মাসুরা পড়ে দুই দিকে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ করতে হবে।
কখন সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়?
১. নামাজের কোনো ওয়াজিব আমল (যেমন: সুরা ফাতিহা পড়তে ভুলে যাওয়া, রুকু-সিজদায় দেরি করা) ভুলবশত বাদ পড়লে।
২. প্রথম বৈঠকে বসতে ভুলে সরাসরি দাঁড়িয়ে গেলে।
৩. রাকাত সংখ্যায় সন্দেহ হলে এবং বেশি সময় চিন্তা করে নামাজের রোকন আদায়ে বিলম্ব করলে।
৪. ফরজ নামাজে ভুলবশত সুরা ফাতিহার সাথে সুরা মিলাতে ভুলে গেলে।
মনে রাখতে হবে, নামাজে ইচ্ছা করে ভুল করলে সাহু সিজদায় নামাজ শুদ্ধ হবে না। আবার যদি নামাজের কোনো 'ফরজ' রোকন (যেমন: রুকু বা সিজদা) বাদ পড়ে যায়, তবে সাহু সিজদা দিলেও নামাজ হবে না; সেক্ষেত্রে ওই নামাজ পুনরায় পড়তে হবে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, নামাজে পূর্ণ মনোযোগ রাখা এবং ধীরস্থিরভাবে রুকু-সিজদা আদায় করলে এ ধরণের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।


