ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানুষের পবিত্রতা অর্জন ও দৈনন্দিন শিষ্টাচারের বিষয়েও ইসলামে রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা। বাথরুম বা শৌচাগার ব্যবহারের ক্ষেত্রে নবী করীম (সা.) নির্দিষ্ট কিছু দোয়া ও নিয়ম শিক্ষা দিয়েছেন, যা আমাদের একদিকে যেমন অপবিত্রতা থেকে রক্ষা করে, অন্যদিকে শয়তানের অনিষ্ট থেকেও মুক্তি দেয়।
দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজে ইসলামের সুন্দর ও কল্যাণকর বিধান রয়েছে। এমনকি বাথরুমে প্রবেশ এবং বের হওয়ার সময়ও নবীজি (সা.) বিশেষ দোয়া ও শিষ্টাচার শিখিয়েছেন।
বাথরুমে প্রবেশের দোয়া
বাথরুমে প্রবেশের আগে দোয়া পাঠ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শৌচাগার হলো অপবিত্র স্থান এবং হাদিস অনুযায়ী সেখানে দুষ্ট জিন ও শয়তানের আনাগোনা থাকে।
দোয়া (আরবি):
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খাবাইছ। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পুরুষ ও মহিলা শয়তানের (অনিষ্ট) থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
বাথরুম থেকে বের হওয়ার দোয়া
বাথরুম থেকে বের হওয়ার পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় স্বরূপ ছোট এই দোয়াটি পাঠ করা সুন্নাহ।
দোয়া (আরবি):
غُفْرَانَكَ
উচ্চারণ: গুফরা-নাকা। (তিরমিজি, আবু দাউদ)
অর্থ: (হে আল্লাহ!) আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
(উল্লেখ্য যে, বাথরুম থেকে বের হওয়ার পর 'আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আজহাবা আন্নিল আজা ওয়া আফানি' দোয়াটিও পড়া যায়, যার অর্থ— সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমার কষ্টদায়ক বস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে সুস্থতা দান করেছেন।)
বাথরুম ব্যবহারের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত
নিউজ পোর্টালে পাঠকদের সচেতনতায় আপনি নিচের পয়েন্টগুলো যুক্ত করতে পারেন:
১. বাম পা দিয়ে প্রবেশ: বাথরুমে প্রবেশের সময় আগে বাম পা দিয়ে প্রবেশ করা এবং বের হওয়ার সময় আগে ডান পা দিয়ে বের হওয়া সুন্নাত।
২. মাথা ঢাকা: বাথরুমে যাওয়ার সময় মাথা ঢেকে রাখা (টুপি বা কাপড় দিয়ে) মুস্তাহাব।
৩. জুতা পরিধান: খালি পায়ে বাথরুমে না গিয়ে জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী এবং সুন্নাহ সমর্থিত।
৪. কথা না বলা: বাথরুমে থাকাকালীন কোনো প্রয়োজন ছাড়া কথা বলা বা জিকির-আজকার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
৫. পবিত্রতা অর্জন: বাথরুমের কাজ শেষে পানি দিয়ে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করা ঈমানের অন্যতম দাবি।
ছোট্ট এই আমলগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বরকত নিয়ে আসে এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সুরক্ষা দেয়। একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ মেনে চলা।


