ক্রিকেট মাঠে দক্ষতা থাকলেও কেবল ‘জাতীয় পরিচয়’-এর কারণে সুযোগ হারাচ্ছেন পাকিস্তানি ক্রিকেটার ও কোচরা। সম্প্রতি উইজডেন ক্রিকেট উইকলি পডকাস্টে পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার আজহার মেহমুদের বিস্ফোরক মন্তব্য বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন করে বৈষম্যের বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
মেহমুদ দাবি করেছেন, পাকিস্তানি হওয়ার কারণেই ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) কোচিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও তা হারিয়েছেন তিনি।
আজহার মেহমুদ জানান, প্রায় চার বছর আগে সিপিএলের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে কোচ হওয়ার প্রস্তাব দেয়। সব ঠিকঠাক থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাকে না করে দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পক্ষ থেকে সরাসরি জানানো হয়েছে—দলে কোনো পাকিস্তানি কোচ বা খেলোয়াড় রাখা সম্ভব নয়।
বর্তমান বিশ্ব ক্রিকেটে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর নিয়ন্ত্রণ পরোক্ষভাবে আইপিএল মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে চলে গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০, আমেরিকার মেজর লিগ ক্রিকেট (এমএলসি) কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলটি২০—সবখানেই ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিদের আধিপত্য।
আজহার মেহমুদ বলেন, সবকিছুই এখন আইপিএল ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত। ভারতীয় মালিকানাধীন দলগুলোতে কোচ হিসেবে সুযোগ পাওয়া আমার জন্য কঠিন। বিষয়টি কেবল আমার নয়; খেলোয়াড়দের জন্যও একই রকম বাস্তবতা।
বিতর্কের হাওয়া লেগেছে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট 'দ্য হানড্রেড'-এও। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মালিকানাধীন চারটি দল (এমআই লন্ডন, সানরাইজার্স লিডস, ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস এবং সাউদার্ন ব্রেভ) নিলামে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এড়িয়ে চলতে পারে।
যদিও ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) জানিয়েছে, তারা কোনো দলকে নির্দিষ্ট খেলোয়াড় কিনতে বাধ্য করতে পারে না, তবে রাজনৈতিক কারণে বৈষম্য করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্তের জন্য স্বাধীন ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছেও পাঠানো হতে পারে।
এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন খোদ ইংলিশ তারকারা। ইংল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক বলেন, দ্য হানড্রেডে পাকিস্তানিদের না নেওয়াটা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক।
সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনীতির মিশেল কোনোভাবেই কাম্য নয়।
উল্লেখ্য, আজহার মেহমুদ ২০১১ সাল থেকে ব্রিটিশ নাগরিক। কাউন্টি ক্রিকেটে তিনি স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন। ব্রিটিশ পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও তার পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পরিচয়ই এখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মনে করেন।



