আর্জেন্টাইন ফুটবলের দুই কিংবদন্তি লিওনেল মেসি এবং ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে নিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্ক দীর্ঘদিনের। গোলসংখ্যা, ট্রফি কিংবা ব্যক্তিগত নৈপুণ্য—সব বিচারেই ফুটবল বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত।
এবার সেই বিতর্কে নিজের মতামত জানিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন আর্জেন্টিনার সাবেক গোলমেশিন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলা এই স্ট্রাইকারের মতে, মাঠের দক্ষতা ও নেতৃত্বের দিক থেকে ম্যারাডোনা এখনও অনন্য।
সম্প্রতি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তি রিও ফার্ডিনান্ডের পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাতিস্তুতা। সেখানে মেসি ও ম্যারাডোনার তুলনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার। মেসি হয়তো ১,০০০ গোল করবেন, যেখানে ম্যারাডোনার গোল ছিল ২০০-র মতো।
মেসি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছেলে, কিন্তু ম্যারাডোনা তেমন ছিলেন না। বাতিস্তুতার মতে, মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যারাডোনা ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
বাতিস্তুতা আরও যোগ করেন, ম্যারাডোনা সেরা কারণ তিনি খেলা পরিচালনার পাশাপাশি রেফারি এবং প্রতিপক্ষকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন। তিনি এমন সব অবিশ্বাস্য কাজ করতেন যা কল্পনা করাও কঠিন।
মেসিও তেমন ফুটবল খেলতে পারে, কিন্তু ম্যারাডোনার মতো সেই বিশেষ 'ক্যারিশমা' বা ব্যক্তিত্ব মেসির মধ্যে নেই।
এদিকে মাঠের ব্যক্তিত্ব নিয়ে বাতিস্তুতার ভিন্নমত থাকলেও পরিসংখ্যানের পাতায় মেসি নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। ইন্টার মিয়ামির হয়ে নিউ ইয়র্ক সিটি এফসি-র বিপক্ষে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ে একটি লক্ষ্যভেদী ফ্রি-কিক নিয়ে মেসি তার রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছেন।
এটি ছিল মেসির ক্যারিয়ারের ৭১তম ফ্রি-কিক গোল। এর মাধ্যমে তিনি ম্যারাডোনার ৬২টি ফ্রি-কিক গোলের রেকর্ডকে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছেন। এখন তার সামনে কেবল রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জুনিদিনিও, যার ফ্রি-কিক গোলসংখ্যা ৭৭।
নিউ ইয়র্ক সিটির বিপক্ষে করা গোলটি মেসির পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ৯০১তম গোল। এর মাধ্যমে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ৯০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন ৩৮ বছর বয়সী এই মহাতারকা। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়েও মেসির গোল সংখ্যা এখন ১১৫, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।


