বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা নকআউট পর্বে টানা দুই ম্যাচে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। কেপ ভার্দে ও মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠলেও, বিশেষ করে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
শেষ ষোলোর ম্যাচে হারের পর মিশর ফিফার কাছে অভিযোগ জানিয়ে দাবি করেছে, রেফারিংয়ে আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাত দেখানো হয়েছে এবং লিওনেল মেসিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। মিশরের কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেন, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও মেসিকে টুর্নামেন্টে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু
ম্যাচে মিশরের একটি গোল ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল করা হয়। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে নিজেদের পক্ষে দুটি পেনাল্টির দাবিও তোলে আফ্রিকার দলটি। তবে ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিদ্ধান্তগুলো বিতর্কিত হলেও সেগুলোকে আর্জেন্টিনার পক্ষে পরিকল্পিত পক্ষপাতের নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে দেখানো কঠিন।
মেসির লাল কার্ড ইস্যু
টুর্নামেন্টের শুরুতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে একটি ঘটনায় মেসির বিরুদ্ধে লাল কার্ডের দাবি উঠলেও তিনি কোনো কার্ড দেখেননি। একই ধরনের ঘটনায় অন্য এক খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। সমালোচকদের দাবি, ওই সিদ্ধান্ত ভিন্ন হলে মেসি পরবর্তী কয়েকটি ম্যাচে খেলতে পারতেন না।
হলুদ কার্ডের পরিসংখ্যান
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা প্রতি ১৯ দশমিক ৭টি ফাউলের বিপরীতে একটি হলুদ কার্ড পেয়েছে, যা টুর্নামেন্টে অন্যতম কম। অন্যদিকে ইংল্যান্ড প্রতি ৭ দশমিক ৭টি ফাউলের বিপরীতে একটি হলুদ কার্ড পেয়েছে। এই ব্যবধান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকেরা।
নকআউট ড্র নিয়েও আলোচনা
বিশ্বকাপের ড্রয়ে শীর্ষ চার র্যাংকিংধারী দলকে আলাদা কোয়ার্টারে রাখা হয়েছিল। ফলে সেমি-ফাইনালের আগে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ছিল না। সমালোচকদের মতে, এতে আর্জেন্টিনার পথ তুলনামূলক সহজ হয়েছে। যদিও একই সুবিধা অন্য শীর্ষ দলগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল।
আর্জেন্টাইন রেফারি নিয়োগ
ফ্রান্স ও মরক্কোর কোয়ার্টার-ফাইনালে প্রথমবারের মতো মাঠের সব কর্মকর্তা আর্জেন্টিনার হওয়ায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো অনিয়ম বা পক্ষপাতের প্রমাণ সামনে আসেনি।
পেনাল্টির হিসাব
২০২২ বিশ্বকাপের মতো এবারও আর্জেন্টিনা সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি পাওয়া দলগুলোর একটি। চলতি আসরে তারা তিনটি পেনাল্টি পেয়েছে, যদিও এর মধ্যে দুটি মিস করেছেন লিওনেল মেসি।
কী বলছে বিশ্লেষণ?
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রেফারিংয়ের কয়েকটি সিদ্ধান্ত, হলুদ কার্ডের পরিসংখ্যান এবং নকআউট সূচি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, ফিফা ইচ্ছাকৃতভাবে আর্জেন্টিনা বা মেসিকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে—এমন কোনো চূড়ান্ত বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনও অভিযোগ ও বিতর্কের পর্যায়েই রয়েছে।
তথ্যসূত্র : বিবিসি বাংলা

