বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর উদযাপনের সময় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনায় মালভিনাস) ইস্যুতে রাজনৈতিক বার্তা সংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করায় বিতর্কে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। এই ঘটনায় ফিফার শাস্তির মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়রা।
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোড ও Laws of the Game অনুযায়ী, অফিসিয়াল ম্যাচ বা প্রতিযোগিতায় মাঠে কিংবা স্টেডিয়ামের ভেতরে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য অতীতে বিভিন্ন দল ও খেলোয়াড়কে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এর আগে ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের পর দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলার পার্ক জং-উ বিতর্কিত ডকদো/তাকেশিমা দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন। সেই ঘটনায় তাকে পদক বিতরণ অনুষ্ঠান থেকে বিরত রাখা হয় এবং পরে দুই ম্যাচের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছিল।
আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও এমন নজির রয়েছে। ২০১৪ সালে ‘Las Malvinas son Argentinas’ লেখা ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে জরিমানা করেছিল ফিফা।
ফাইনালের আগে খেলোয়াড়রা কি নিষিদ্ধ হতে পারেন?
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় সবচেয়ে সম্ভাব্য শাস্তি হতে পারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা। তবে ব্যানার প্রদর্শনে সরাসরি জড়িত খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধেও ব্যক্তিগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
তবে বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে সময় খুবই সীমিত। এ ছাড়া একাধিক খেলোয়াড় জড়িত থাকায় ম্যাচের আগে তাদের নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম বলেই মনে করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে ফিফা কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল, সিদ্ধান্ত বা বিবৃতি প্রকাশ করেনি। ফলে আর্জেন্টিনার কোনো খেলোয়াড় ফাইনালে খেলতে পারবেন কি না, নাকি বিষয়টি কেবল জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে— সেটি এখনও অনিশ্চিত।

