প্রায় দুই দশক ধরে গাজা উপত্যকার শাসন পরিচালনা করে আসা হামাস এবার তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দেওয়া এই ঘোষণাকে গাজার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হামাস নিয়ন্ত্রিত সরকারি তথ্য দপ্তরের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, গাজা সরকারের জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা ইতোমধ্যে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক হস্তান্তর প্রক্রিয়া সহজ করতে জরুরি কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসন করে আসা হামাসের এই পদক্ষেপকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের দিকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি ইঙ্গিত দেয়, দলটি দৈনন্দিন শাসনভার থেকে সরে এসে রাজনৈতিক ও সামরিক ভূমিকায় নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে চায়।
সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানায়, গাজার শাসনব্যবস্থা হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক ও আইনি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বিভিন্ন ফিলিস্তিনি দল, উপজাতীয় প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ সংগঠন এবং জাতিসংঘের একজন পর্যবেক্ষকের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা আলী শাথের নেতৃত্বাধীন একটি টেকনোক্র্যাটিক সংস্থা—ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ গাজা (এনসিএজি)—বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এটি ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি আলোচনার পর গঠিত একটি কাঠামো, যা এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হস্তান্তর চলাকালে জনসেবা অব্যাহত রাখতে সরকারি কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
হামাসের এক কর্মকর্তা জানান, কায়রোতে সাম্প্রতিক আলোচনায় এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি দলগুলোকে জানানো হয়েছে এবং অংশগ্রহণকারীরা এটিকে যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে মতপার্থক্য নিরসনের লক্ষ্যে আগামী দিনগুলোতে মিশরের মধ্যস্থতায় কায়রোতে নতুন দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী মিশর, কাতার ও তুরস্ক যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন, পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হামাসের এই ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপগুলো ‘অর্থহীন প্রতারণা’ ছাড়া কিছু নয়। তাদের অভিযোগ, হামাস যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ার দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে।
চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রগতি কয়েক মাস ধরেই স্থবির রয়েছে। হামাস অস্ত্র সমর্পণ ছাড়া ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধিতা করে আসছে এবং একটি স্বীকৃত ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠনের দাবি জানাচ্ছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত পুনর্গঠন শুরু করা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা শাসন, নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। ফিলিস্তিনি সূত্র অনুযায়ী, উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা এখনো ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত বাস্তবায়ন নিয়েও বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন