তেহরানের রাস্তায় ইরানের সাবেক প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া মিছিলে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। ওই মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা খামেনির হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ডের আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেন। তারা ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ বলেও স্লোগান দিতে থাকেন।
সোমবার (৬ জুলাই) সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত বিশাল স্মরণসভাগুলোর মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় সমাবেশ।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ড্রোন ফুটেজে দেখা যায়, মধ্য তেহরানের প্রধান সড়কে হাজার হাজার মানুষ গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে শোক প্রকাশ করছেন। মিছিলে খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কফিন একটি বড় ট্রাকে করে বহন করা হয়। প্রচণ্ড গরমের কারণে অংশগ্রহণকারীদের স্বস্তি দিতে তাদের ওপর পানি ছিটানো হচ্ছিল।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, একটি সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় শোকাহতরা ওপর থেকে ঝুলিয়ে রাখা একটি বিলবোর্ডের দিকে পাথর নিক্ষেপ করেন। বিলবোর্ডটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাথার দিকে বন্দুক তাক করা একটি ছবি ছিল।
সেখানে লেখা ছিল, ‘আমেরিকা আমাদের বাবাকে হত্যা করেছে। আমরা তোমাকে যেতে দেব না!’

বিক্ষোভকারীরা যখন মার্কিন ও ব্রিটিশ পতাকায় আগুন দিচ্ছিলেন, তখন কালো চাদর পরিহিত নারীরা লাল রঙের প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ধরেন। সেগুলোতে কালো অক্ষরে ইংরেজিতে লেখা ছিল, ‘Kill Trump’ (ট্রাম্পকে হত্যা করো)।
এ ছাড়া অনেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ছবি সংবলিত পোস্টার বহন করেন। প্রতিটি ছবিতে তাদের বন্দুকের নিশানার কেন্দ্রে দেখানো হয় এবং পাশে লেখা ছিল, ‘রক্তপাত হবে’।
বৃহত্তর জনতা ইরানের জাতীয় পতাকা ও লাল ব্যানার নাড়াচ্ছিলেন। ব্যানারগুলোতে লেখা ছিল, ‘খামেনির প্রতিশোধক’।
এই স্লোগানটি শিয়া ইসলামের একটি বহুল প্রচলিত ঐতিহাসিক বাক্যাংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। সপ্তম শতকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাতি ইমাম হুসাইন (রা.) কারবালার যুদ্ধে শহীদ হওয়ার পর থেকে এ ধরনের প্রতিশোধ ও ন্যায়বিচারের আহ্বানসূচক বক্তব্য শিয়া ঐতিহ্যে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সূত্র : মিডল ইস্ট অনলাইন

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন