সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীন এসেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রোববার (৩১ আগস্ট) তিনি দেশটির উত্তরাঞ্চলের নগরী তিয়ানজিনে পৌঁছান। পুতিনের একদিন আগেই সেখানে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বন্দরনগরী তিয়ানজিনে এসসিওর দুই দিনের এই সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ রোববার, চলবে আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং’র আমন্ত্রণে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিতে পুতিন-মোদিসহ আরও প্রায় ২০টি দেশের নেতারা চীনে গেছেন।
এই নেতাদের মধ্যে রয়েছেন এসসিও সদস্যদেশ—রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়য়েভ, কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ ও তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, মিয়ানমারের সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জুসহ আরও কয়েকজন নেতার এ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংস্থা আসিয়ানের মহাসচিব কাও কিম হর্নও সম্মেলনে অংশ নেবেন।
এসসিও সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন:
চীন ও রাশিয়া তাদের এসসিও জোটকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে। শনিবার (৩০ আগস্ট) চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ায় পুতিনের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ পায়। এতে পুতিন বলেন, এই সম্মেলন সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও হুমকির জবাব দিতে এসসিওর সক্ষমতা বাড়াবে এবং অভিন্ন ইউরেশীয় অঞ্চলে সংহতি জোরদার করবে। পুতিনের মতে, ‘এসবই একটি অধিক ন্যায়সংগত বহুপক্ষীয় বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।’
এদিকে ভারতের মন জয় করতেও আগ্রহী রাশিয়া। বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে যে ফাটল দেখা দিয়েছে, তা রাশিয়ার সামনে সুযোগ হয়ে এসেছে। এ ছাড়া তাইওয়ানের ওপর চীনের দাবি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেইজিং ও মস্কো এসসিওর মতো প্ল্যাটফর্মকে প্রভাব বিস্তারের জন্য কাজে লাগাতে আগ্রহী।
এ নিয়ে সিঙ্গাপুরের নানইয়াং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডিলান লোহ বলেন, ‘চীন দীর্ঘদিন ধরে এসসিওকে এমন এক অপশ্চিমা শক্তি জোট হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, যা নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে এগিয়ে নেবে। চীনের দাবি, এই জোট আরও বেশি গণতান্ত্রিক।’ ডিলান লোহ আরও বলেন, সংক্ষেপে এটি চীন-প্রভাবিত একটি বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পশ্চিমা আধিপত্যশীল ব্যবস্থার থেকে আলাদা।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন