ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

১২০ বিড়ালের খাবার জোগাতে প্রতিদিন যা করেন তিনি

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৬:৪৫ পিএম
বিড়ালদের খাবার দিচ্ছেন জুয়ানজুয়ান। ছবি- সংগৃহীত

বেশিরভাগ মানুষ বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে উপহার, সেলফি আর ভরপেট খাবারের স্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাওশানের বাসিন্দা জুয়ানজুয়ান বিয়ের দাওয়াত ছাড়েন হাতে টেকওয়ে বাক্স নিয়ে—১২০টি বিড়ালের খাবারের জোগান নিশ্চিত করতে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (এসসিএমপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন বছরে জুয়ানজুয়ান প্রায় ১০০টি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। উদ্দেশ্য একটাই, ভোজসভায় ফেলে দেওয়া পরিষ্কার ও অখাদ্য খাবার সংগ্রহ করে বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া বিড়ালদের খাওয়ানো।

সামাজিক উদ্বেগে ভোগা এই নারী একসময় অপরিচিতদের সঙ্গে কথা বলতেই ভয় পেতেন। কিন্তু বিড়ালদের প্রয়োজনই তাকে সাহস জুগিয়েছে বলে জানান তিনি।

খণ্ডকালীন ভিডিও সম্পাদক হিসেবে কাজ করা জুয়ানজুয়ানের জীবন বদলে যায় ২০২২ সালের শীতে। শীতের মধ্যে বাইরে কাঁপতে থাকা কয়েকটি বিড়ালকে উদ্ধার করতে গিয়ে শুরু হয় তার এ যাত্রা। এক উদ্ধার থেকে আরেক উদ্ধার। অল্প সময়েই তার বাড়ি পরিণত হয় ১২০টির বেশি বিড়ালের আশ্রয়ে।

তবে এতগুলো প্রাণীর খাবারের খরচ কম নয়। জুয়ানজুয়ানের হিসাবে, একটি বিড়ালছানার দৈনিক খরচই প্রায় ৩ ইউয়ান। ফলে প্রতিদিনের ব্যয় দাঁড়ায় ৩০০ ইউয়ানেরও বেশি।

এক বিয়ের দাওয়াতে গিয়ে তিনি দেখেন, বিপুল পরিমাণ খাবার অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। সেখান থেকেই মাথায় আসে ‘অবশিষ্ট উদ্ধার পরিকল্পনা’। এরপর থেকে নিয়মিত বিয়ের ভোজ থেকে খাবার সংগ্রহ করে তা পুনরায় ব্যবহার করছেন।

অপরিচিতদের কাছে গিয়ে খাবার চাওয়া সহজ ছিল না। কভার নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমার সামাজিক উদ্বেগ আছে। কথা বলতে অনেক সাহস লাগে। কিন্তু ঘরে অপেক্ষা করা বিড়ালদের কথা ভাবলেই নিজেকে সামলে নিই।’

আশ্চর্যের বিষয়, বেশিরভাগ নবদম্পতি তাকে ফিরিয়ে দেননি। বরং কৌতূহল ও সহানুভূতির সঙ্গে তার উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন। কৃতজ্ঞতা হিসেবে জুয়ানজুয়ান সাধারণত দম্পতিকে ১০০ ইউয়ান উপহার দেন, মজা করে একে বলেন ‘বিড়ালছানাদের খাবারের টিকিট’।

বর্তমানে তিনি গড়ে প্রতি ১০ দিনে একবার বিয়ের ভোজে যান। ব্যস্ত মৌসুমে একদিনেই ৩০ কেজি পর্যন্ত খাবার নিয়ে ফিরতে পারেন—মুরগি, সামুদ্রিক খাবার ও চিংড়িসহ। বাড়িতে এনে তিনি তেল ও লবণ কমাতে খাবারগুলো আবার ভাপিয়ে নেন, তারপর বিড়ালদের পরিবেশন করেন।

এই উদ্যোগে প্রতি মাসে তার ১ হাজার থেকে ২ হাজার ইউয়ান পর্যন্ত সাশ্রয় হচ্ছে। পাশাপাশি কমছে খাবারের অপচয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় জুয়ানজুয়ান তার রুটিন নিয়মিত শেয়ার করছেন। বিয়ের দাওয়াত থেকে খাবার প্যাক করার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এরই মধ্যে তার ফলোয়ার সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৫ লাখ। একটি ভিডিওতেই দেখা গেছে ৫ কোটির বেশি ভিউ এবং ১৫ লাখ লাইক।

এসসিএমপি-কে তিনি বলেন, ‘আমি যা করছি তা অর্থপূর্ণ—অপচয় কমানো এবং বিপথগামী প্রাণীদের সাহায্য করা। মানুষ যদি এটা দেখে সচেতন হয়, সেটাই আমার সাফল্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অভিজ্ঞতা আমার জীবনও বদলে দিয়েছে। বিড়ালগুলোই আমাকে আমার খোলস ভেঙে বের হতে শিখিয়েছে।’

উল্লেখ্য, চীনে বিপথগামী বিড়ালের সংখ্যা আনুমানিক ২ কোটি ২০ লাখ থেকে ৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি। পোষা প্রাণী পরিত্যাগ ও স্পে-নিউটারিং কম হওয়ার কারণে এই সংখ্যা বাড়ছেই। সেই বাস্তবতায় জুয়ানজুয়ানের গল্প অনলাইনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, তৈরি করেছে সহমর্মিতা ও আলোচনার ঝড়।