ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

শিপন আহমদ, সিডনি (অস্ট্রেলিয়া)
প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
নওশিন নাওয়ার উর্বি। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানো এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু হয়েছে। মস্তিষ্কে টিউমারে আক্রান্ত হয়ে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অধ্যয়নরত নওশিন নাওয়ার উর্বি মারা গেছেন। এই ঘটনায় পরিবারসহ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা গেছে, উর্বি মেলবোর্নে সোশ্যাল সায়েন্সে মাস্টার্স করছিলেন। কয়েক মাস ধরে মাথাব্যথায় ভুগলেও বিষয়টি তিনি তেমন গুরুত্ব দেননি। হঠাৎ অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি অচেতন হয়ে কোমায় চলে যান।

পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসকরা তাকে ক্লিনিক্যালি মৃত ঘোষণা করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উর্বির বাড়ি ঢাকার নরসিংদী জেলায়। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং বাবা একমাত্র মেয়ের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক একটি বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠন মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাসপাতাল থেকে মরদেহ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে। এমবামিং শেষে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নেওয়ার পর মরদেহ দেশে পাঠানো হবে।

সূত্র জানায়, মরদেহ দেশে পাঠাতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার ব্যয় হতে পারে। তবে উর্বির বিমায় মৃতদেহ প্রত্যাবাসনের কভারেজ না থাকায় বিষয়টি জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলবোর্নে তার জানাজার সময় পরে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমায় পূর্ণাঙ্গ কভারেজ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা ও মরদেহ প্রত্যাবাসন সুবিধা বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।