রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত বলেছেন, ‘ইসলাম তার আগমনের পর থেকেই ভারতের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ভবিষ্যতেও তা থাকবে।’
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে আরএসএস-এর শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মোহন ভাগবত বলেন, ‘যারা মনে করে ইসলাম থাকবে না, তারা হিন্দু দর্শন দ্বারা পরিচালিত নয়। হিন্দু দর্শন এমনটা ভাবে না। উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস থাকলেই সংঘাতের অবসান সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘ভারতের সব নাগরিকের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, ঐক্য এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি সম্মিলিত সমাজ গড়ে তোলা দরকার।’
অনুপ্রবেশ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে আরএসএস প্রধান বলেন, ‘অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। সরকার এ নিয়ে কাজ করছে। এবং ভারতের মুসলিম নাগরিকদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা জরুরি করছে।’
তার ভাষায়, ‘ভারতে বসবাসকারী মুসলিমরাও আমাদের নাগরিক। তাই চাকরির সুযোগ তৈরি হলে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত দেশের নাগরিকদের, বাইরের কাউকে নয়।’
উৎসব ও উপবাসের সময় ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, ‘উপবাসের সময় মানুষ নিরামিষ থাকতে পছন্দ করে। এই সময়ে এমন কিছু না দেখানোই ভালো, যা কারো অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই-তিন দিনের জন্য সংযম দেখাতে পারলেই কোনো আইনের প্রয়োজন হবে না।’
সবশেষে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গে মোহন ভাগবত বলেন, ‘জনসংখ্যাকে একটি নিয়ন্ত্রিত এবং যথেষ্ট স্তরে রাখতে হবে। প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের সর্বোচ্চ তিনটি সন্তান থাকা উচিত।’
এদিকে তার এই মন্তব্য জনমিতিক এবং রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বর্তমান ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে রাজনৈতিক বিদ্বেষ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মোহন ভাগবতের এই বক্তব্য আলাদা মাত্রা পেয়েছে। বিজেপি সরকারের একাধিক নেতা যেখানে মুসলিমবিরোধী বক্তব্য দিয়ে থাকেন, সেখানে আরএসএস প্রধানের এমন অবস্থানকে বিশ্লেষকরা দেখছেন সম্প্রীতির বার্তা হিসেবেই।