ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

লারিজানি হত্যার ‍‍‘চূড়ান্ত প্রতিশোধ‍‍’ নেবে ইরান, তেল আবিবে নিহত ২

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
আলী লারিজানি। ছবি : সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ১৯তম দিন আজ। ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার প্রথম দিন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।

আরব আমিরাতে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ঘাঁটির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা :

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার একটি সামরিক ঘাঁটির কাছে ইরানের ছোঁড়া একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আজ সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আল মিনহাদ’ ঘাঁটিতে এই আঘাতের ঘটনা ঘটে। আলবানিজ বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি যে, কোনো অস্ট্রেলীয় সেনাসদস্য আহত হননি এবং সবাই সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন।’

তিনি আরও জানান, ঘাঁটির দিকে যাওয়ার রাস্তায় প্রজেক্টাইলটি আঘাত হানার ফলে ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ফলে একটি আবাসন ব্লক এবং একটি চিকিৎসা কেন্দ্রের সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

লারিজানি হত্যার ‘চূড়ান্ত’ প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা :

ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি নিহত হওয়ার ঘটনায় ‘চূড়ান্ত প্রতিশোধ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি। এক বিবৃতিতে হাতামি বলেন, ‘উপযুক্ত সময়ে ও স্থানে অপরাধী আমেরিকা এবং রক্তপিপাসু জায়নবাদী শাসকদের এক চূড়ান্ত, প্রতিরোধমূলক ও অনুশোচনা জাগানিয়া জবাব দেওয়া হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, লারিজানি এবং অন্যান্য ‘শহীদদের’ মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, লারিজানি হত্যার ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইতোমধ্যে মধ্য ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ আলী লারিজানির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। 

ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইরানের উন্নতি এবং ইসলামী বিপ্লবের জন্য আজীবন সংগ্রামের পর তিনি অবশেষে তার দীর্ঘদিনের লালিত ইচ্ছা পূরণ করেছেন, সত্যের ডাকে সাড়া দিয়েছেন এবং গৌরবের সাথে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় শাহাদাতের বরকতময় মর্যাদা লাভ করেছেন।’

তার আগে একটি লক্ষ্যভেদী হামলার মাধ্যমে লারিজানিকে হত্যার দাবি করেছিল ইসরায়েল।

এদিকে ইরানের বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানির মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এ খবর নিশ্চিত করেছে। 

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, সোলাইমানি আমেরিকান-জায়নিস্ট শত্রুদের হামলায় নিহত হয়েছেন।

সোলাইমানিকে একজন ‘গৌরবময় সেনাপতি’ বলে অভিহিত করে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবফ বলেছেন, তিনি ‘মানবতার সবচেয়ে জঘন্য শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেছেন’।

এর আগে পৃথক হামলায় সোলাইমানিকে হত্যার দাবি করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী।

তেল আবিবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২

তেল আবিবের আশপাশে বেশ কয়েকটি স্থানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। ইসরায়েলের ম্যাজেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের একজন কর্মী বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানান, তারা একটি ভবন থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন এবং সেখানে কাচ ভেঙে পড়ে থাকাসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সেখানে দুজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তাদের শরীরে কোনো হৃৎস্পন্দন ছিল না এবং তারা শ্বাস নিচ্ছিলেন না। তাদের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।’

পরে চিকিৎসকরা তেল আবিবের পূর্বে রামাত গান এলাকায় এক পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তারা মূলত গোলার অংশের (স্প্লিন্টার) আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছিলেন। 

এ ছাড়া বনেই ব্রাক এলাকায় হাতে স্প্লিন্টারের আঘাত পাওয়া এক ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে।

বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে নতুন করে হামলা

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার ভোরে সেখানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে তারা জানায়, বাগদাদের অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘গ্রিন জোন’ এলাকায় যেখানে দূতাবাসটি অবস্থিত, তার কাছাকাছি এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। এএফপির প্রতিনিধিরাও ওই এলাকায় বিস্ফোরণের জোরালো শব্দ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।

অত্যন্ত সুরক্ষিত এই গ্রিন জোন এলাকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যালয় অবস্থিত। বর্তমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই নিয়ে কয়েক দফা হামলার শিকার হলো বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস। 

সৌদি আরব এবং কুয়েতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দেশটির পূর্ব দিকে ছয়টি ড্রোন শনাক্ত করেছে এবং সেগুলো সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকির’ জবাব দিচ্ছে। তারা জনসাধারণকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা-সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

কুয়েত আরও জানিয়েছে, ‘যেকোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে’ বুঝে নিতে হবে যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলাগুলো প্রতিহত করার ফলেই এমন শব্দ হচ্ছে।