ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এখন বিশ্ববাসীর নজর পাকিস্তানের দিকে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই শক্তির মধ্যে শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতা করে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি।
শনিবার থেকে ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া এই হাই-প্রোফাইল বৈঠককে কেন্দ্র করে পাকিস্তানজুড়ে এখন সাজ সাজ রব।
শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে রাজধানী ইসলামাবাদে ইতোমধ্যে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তায় ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো শহর। প্রায় ১০ হাজার পুলিশ এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে রাজপথে।
যদিও আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে, তবুও একটি সফল বৈঠক আয়োজনে কোনো কমতি রাখছে না শাহবাজ শরিফের প্রশাসন।
জানা যায়, এই আলোচনার গুরুত্ব কেবল মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্য অপরিসীম। যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের পথ 'হরমুজ প্রণালী' কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
এই আলোচনার সফলতার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব জ্বালানি তেলের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।
তবে পাকিস্তানের জন্য এই মধ্যস্থতা কেবল সম্মানের নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইও বটে। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আব্দুল বাসিত জানান, আলোচনা ব্যর্থ হলে পাকিস্তান এক 'ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের' মুখে পড়বে।
গত বছর সৌদি আরবের সাথে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে ইরান-সৌদি সংঘাত শুরু হলে পাকিস্তানকে বাধ্য হয়েই যুদ্ধে জড়াতে হতে পারে। তিন দিকের সীমান্তে উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ মোকাবিলা করা পাকিস্তানের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ব্যক্তিগত কারিশমা বড় ভূমিকা রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন মুনির।
২০২১ সালে কাবুল বিমানবন্দর হামলার পরিকল্পনাকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া এবং ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার মতো পদক্ষেপগুলো হোয়াইট হাউসের সাথে ইসলামাবাদের দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের সাথেও পাকিস্তান বজায় রেখেছে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক। দীর্ঘ সীমান্ত ভাগাভাগি এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের কারণে তেহরানের কাছে ইসলামাবাদের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত কয়েক সপ্তাহে ওয়াশিংটন, মস্কো, বেইজিং এবং রিয়াদের সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও পাকিস্তানের এই উদ্যোগের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
তবে আলোচনার প্রাক্কালে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলা। গত বুধবার লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলায় ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি



