ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কমতে শুরু করেছে তেলের দাম

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শেষের দিকে যেতে পারে এমন ক্রমবর্ধমান আশাবাদে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে এই প্রত্যাশাই বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে।

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনা সংক্রান্ত মন্তব্যের পর এই আশাবাদ আরও জোরদার হয়।

জিএমটি সময় সাড়ে ৪টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস প্রতি ব্যারেল ১.২২ ডলার বা ১.২৩ শতাংশ কমে ৯৮.১৭ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুড ১.১৯ ডলার বা ১.২৬ শতাংশ কমে ৯৩.৫০ ডলারে নেমে আসে। সপ্তাহজুড়ে উভয় চুক্তির দামই ৩ শতাংশের বেশি কমেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির আশায় বাজারে এই প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির পরের সপ্তাহেও অপরিশোধিত তেলের দাম নিম্নমুখী রয়েছে।

এর আগে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি প্রায় সাত সপ্তাহ বন্ধ ছিল, যার ফলে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়।

অন্যদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়ার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম আরও কমেছে। ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে—এমন আশাবাদই এই পতনের কারণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস ১ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮.০৫ ডলারে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দামও কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারের নিচে নেমে আসে।

এর আগে গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সংঘাতে তেলের দাম দ্রুত প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। সম্প্রতি তা আবার ১০০ ডলারের নিচে নেমে এলেও পুরো সপ্তাহজুড়ে ৯০ ডলারের কাছাকাছি স্থিতিশীল ছিল।

বিশ্বব্যাপী চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তেলের দামে চাপ সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) এবং ওপেক (OPEC) উভয়ই সতর্ক করেছে যে, আগামী মাসগুলোতে তেলের চাহিদা কমতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের প্রবাহ এখনো যুদ্ধ-পূর্ব স্তরের তুলনায় অনেক কম, যদিও এটি বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত।