× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে যারা

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে যারা

যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে, কোনো একক ব্যক্তির পরিবর্তে সামরিক, ধর্মীয় ও বেসামরিক নেতাদের একটি দল ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।

খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে তিনি কতটা কার্যকরভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাকে এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে দাবি করেন, এই যুদ্ধ ইরানের ‘প্রথম সারি’ ও ‘দ্বিতীয় সারি’ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিয়েছে। তবে তার ভাষ্য, এখনকার ‘তৃতীয় সারির’ নেতৃত্ব তুলনামূলকভাবে ‘বুদ্ধিমান’, ‘যুক্তিবাদী’ এবং ‘চরমপন্থি নয়’।

শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া আলি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তির উপস্থিতির দিকে কড়া নজর থাকবে, তাদের নিয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

বাবার উত্তরসূরি হিসেবে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর মোজতবা খামেনি তাত্ত্বিকভাবে ইরানের ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থার সর্বোচ্চ পদে আজীবনের জন্য অধিষ্ঠিত। গুরুত্বপূর্ণ সব নীতিগত বিষয়ে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হওয়ার কথা।

তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি আহত হয়েছিলেন। এ সময়ে তিনি বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে লিখিত বিবৃতি দিলেও, এখন পর্যন্ত তার বাবার মতো একচ্ছত্র নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ

মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বের সবচেয়ে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। গত মাসে প্রথমে পাকিস্তান এবং পরে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তিনি।

ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রেভল্যুশনারি গার্ডসের অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার, তেহরান পুলিশ প্রধান, তেহরানের মেয়র এবং বর্তমানে সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে কোনো যৌথ ছবি তোলা এড়িয়ে চলেন। বিশ্লেষকদের মতে, দেশে কট্টরপন্থী মহলের সমালোচনা এড়াতেই তিনি এমন সতর্কতা অবলম্বন করেন।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

২০২৪ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর পর মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট হন। তাকে দেশটির রাজনীতিতে অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থি নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে প্রেসিডেন্টের পদ তাকে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি বানায় না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির প্রেসিডেন্টদের নীতিনির্ধারণে সীমিত প্রভাবই দেখা গেছে।

তবুও গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটে, তাতে স্বাক্ষর করেন পেজেশকিয়ান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

অভিজ্ঞ কূটনীতিক আব্বাস আরাঘচি ২০২৪ সাল থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আবদুল্লাহিয়ানের মৃত্যুর পর তিনি এ পদে নিয়োগ পান।

গালিবাফের সঙ্গে পাকিস্তান ও সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ফেব্রুয়ারিতে ওমানে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।

ইংল্যান্ডের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী আরাঘচি বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিয়মিত ইরানের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সর্বাধিনায়ক আহমদ ভাহিদি

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমদ ভাহিদি এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর তৃতীয় সর্বাধিনায়ক হন।

তার পূর্বসূরি মোহাম্মদ পাকপুর যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হন। এর আগে হোসেন সালামি ২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে নিহত হন।

যুদ্ধ চলাকালে ভাহিদি নিজেকে জনসমক্ষ থেকে দূরে রেখেছিলেন। তবে তার বর্তমান পদ তাকে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাবের অধিকারী করেছে।

সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর

মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদরও আড়ালে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। গত মার্চে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তার পূর্বসূরি ও অভিজ্ঞ আলোচক আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর তাকে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব করা হয়।

বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ কর্মজীবনের কারণে তার এই নিয়োগকে দেশটির নিরাপত্তা কাঠামোতে রক্ষীবাহিনীর প্রভাব আরও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।

বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি এজেই

গত কয়েক মাসে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিয়মিত দেখা গেছে বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি এজেইকে।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তিনি এক পর্যায়ে বিচারকদের দ্রুত মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।

মৃদুভাষী ধর্মীয় নেতা ও সাবেক গোয়েন্দামন্ত্রী এজেই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার মুখে রয়েছেন। সংস্থাগুলোর অভিযোগ, তিনি ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করেছেন।

কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি

রহস্যময় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ইসমাইল কানি ২০২০ সালে ইরাকে মার্কিন হামলায় কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর কুদস ফোর্সের কমান্ডারের দায়িত্ব নেন।

১২ দিনের যুদ্ধে কানি নিহত হয়েছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও পরে তিনি জনসমক্ষে হাজির হন।

গোয়েন্দা ব্যর্থতার অভিযোগে তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বিরল উপস্থিতিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে অবস্থান নেন এবং বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের প্রচেষ্টার প্রশংসা করা উচিত।

Link copied!