যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাহরাইনজুড়ে আবারও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। দেশটির সরকার নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটতম নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ‘সাইরেন বাজানো হয়েছে। নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং নিকটতম নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর এ সতর্কতা জারি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালানোর পর ইরানও বাহরাইন ও কুয়েতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাহরাইন প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেনারেল কমান্ড জানায়, ‘ইরান বাহরাইন রাজ্যে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে তার পরিকল্পিত শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে।’
এর আগেও গতকাল বুধবার একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তখনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাইরেন বাজিয়ে জনগণকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর উত্তেজনার এ নতুন দফা শুরু হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব হামলা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং নৌ-সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।
গতকাল রাতে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। কুয়েত জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে। একই সময়ে বাহরাইন দেশব্যাপী সতর্কতামূলক সাইরেন বাজায় এবং কাতারও বাসিন্দাদের জন্য সতর্কতা জারি করে।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা কমিয়ে আনতে তারা ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে।
এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, তারা ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, নৌ-সামরিক সক্ষমতা এবং সামরিক রসদ অবকাঠামো।
এদিকে, বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য নাগরিক ও বাসিন্দাদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন