× UCB Sticker Card
রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ফারুক আহমেদ শাহেদ 

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৬:২০ এএম

রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থান 

দাবি থেকে দ্রোহ 

ফারুক আহমেদ শাহেদ 

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৬:২০ এএম

দাবি থেকে দ্রোহ 

শ্রেণিবৈষম্যের বিরুদ্ধে মানবতা ও সাম্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে কাজী নজরুল ইসলাম তার ‘মানুষ’ কবিতায় বলেছিলেন, ‘গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।’ সেই আহ্বানের প্রতিধ্বনি শোনা যায় ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দেশের তরুণদের আন্দোলন দ্রুতই পরিণত হয় বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে। এক দাবি থেকে দ্রোহ,  দ্রোহ থেকে  ঘটে গণঅভ্যুত্থান।

২৪-এর জুলাইয়ের শুরুতে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেনসহ সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে প্রথম ঢাবি শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে অবস্থান নেন। ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’ স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন ক্যাম্পাস। এরপর তারা মিছিল বের করেন এবং সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সমাবেশ করেন।

কোটা নিয়ে সমাবেশে রায় বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ২ জুলাই থেকে তিন দিনের কর্মসূচি এবং ৪ জুলাই পর্যন্ত সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেদিনই শুরু হয় কোটা সংস্কার আন্দোলনের নতুন অধ্যায়। ৪ জুলাই পর্যন্ত একই দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তারা কোটা-সংক্রান্ত ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল এবং সেটিকে আইনে পরিণত করার দাবি জানান। পাশাপাশি শুধু প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণি নয়, সব গ্রেডে কোটা বাতিলের দাবি তোলেন। 

৫ জুন আন্দোলনের পুনর্জাগরণ : আন্দোলনের পেছনের আইনি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল সে বছর আজকের এই দিন ৫ জুন। এদিন সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলসংক্রান্ত ২০১৮ সালের সরকারি পরিপত্রটিকে অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট, যার মধ্যে সরকারি চাকরিতে আবারও মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ মোট ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশী ও শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। যদিও তৎকালীন আওয়ামী সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করে, তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আদালতের ওপর একক নির্ভর না করে কোটা সংস্কারের জন্য নতুন নির্বাহী আদেশের দাবিতে রাজপথে নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

এরই মধ্যে আন্দোলনের আগুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ থেকে ছড়িয়ে পড়ে জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, বাংলাদেশ কৃষি, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৬ জুলাই ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ডাক দেন এবং কর্মসূচি সফল করেন।

৭ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে ‘অযৌক্তিক’ মন্তব্য করে বলেন, বিষয়টি ‘সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত’। এই মন্তব্যের ফলে অবরোধ ও বিক্ষোভ আরও জোরালো হতে থাকে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অবরোধের কারণে অন্যান্য জেলার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নানা কর্মসুচির মধ্য দিয়ে  চলতে থাকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। 

যা চূড়ান্ত মোড় নেয় ১৪ জুলাই, নানা নাটকিয়তায় সেদিন সন্ধ্যার পর পুরো শিক্ষার্থী সমাজ ফুসে ওঠে। ১৪ জুলাই সব গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে গণপদযাত্রা করে আন্দোলনকারীরা রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন। অন্যদিকে সেদিন সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিকের কোটা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোটা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা পাবে না, তো কি রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে?’ এই মন্তব্যের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ উত্তাল হয়ে ওঠে রাজানীর সব কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় হল ও ক্যাম্পাস।

ওই দিন দিবাগত রাতে ঢাবির মেয়েদের হলেই প্রথম ধ্বনিত হতে থাকে ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’; ‘কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার’। এই স্লোগান মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মুখে। এদিকে, আন্দোলন দমাতে এবং শিক্ষার্থীদের এমন স্লোগান দমনের ইঙ্গিত দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এই স্লোগানের জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেন। ওই দিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ ও ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা হামলা চালান। আহত বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে। এসব হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে পড়েন। যুক্ত হতে থাকেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। 

১৬ জুলাই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয় নির্বিচারে। একদিকে আপসহীন শিক্ষার্থীদের রাস্তা না ছাড়ার হুঁশিয়ারি, অণ্যদিকে আন্দোলন দমাতে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। সেদিনই জুলাই আন্দোলনকারীদের রক্তে রঞ্চিত হয় রাজপথ। সারা দেশে অন্তত ছয়জন নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে এবং শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশ দেয়। ওই দিন রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ, যার ভিডিও দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র ক্ষোভ জন্ম নেয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হলগুলো ছাত্রলীগের দখলমুক্ত করেন। সেদিনিই রাজধানীর সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে সর্বাত্মক যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ১৬ জুলাই শহিদ আবু সাঈদকে সাহসের উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে ধারণ করেন। পুলিশের গুলির মুখে দাঁড়িয়ে দুহাত প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো ভিডিও সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। যে ক্ষোভের আগুনেই রচিত হয় গণঅভুত্থানের পথ। দেশজুড়ে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। 

অসহযোগ আন্দোলন : ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আগের দিন নিহতদের স্মরণে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও গায়েবানা জানাজায়ও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এর প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা হাসপাতাল ও জরুরি সেবা খাত ছাড়া সবকিছু বন্ধ রেখে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। প্রাণহানির মিছিল শুরু হয় ১৮ জুলাই থেকে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় আরও একটি গণঅভ্যুত্থানের। সেদিন বিকেল থেকে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ৯ দফা দাবি ঘোষণা হয়। দেশব্যাপী কারফিউ জারি এবং সেনা মোতায়েন, আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কদের তুলে নিয়ে নির্যাতন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ধরতে এলাকায় এলাকায় ‘ব্লক রেইড’ পরিচালনাÑ সবই ঘটে ১৮ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত। জুলাই মাসে রাজধানীসহ সরা দেশে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১৮ জুলাই থেকে ২০ জুলাই, মৃত্যুর রেকর্ড হয় ৫ আগস্টও। ১৯ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, উত্তরা, সাভারসহ বিভিন œস্থানে লাশ পড়ে থাকার ভিডিও ও ছবি পাওয়া যায়। পরিস্থিতি এমনই দাঁড়ায় যে শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয় দিতে ভয় পেতে শুরু করেন। তবে এভাবেই চলতে থাকে আন্দোলন।

১ আগস্টের পর থেকে জোরালো হতে থাকে অসহযোগ আন্দোলনের দাবি। তবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেননি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা। ঘোষণাটি আসে ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে। সেদিন রাজধানী ঢাকার লাখো মানুষ জড়ো হন শহিদ মিনারে। সেদিনই মূলত সরকারপতনের চূড়ান্ত আভাস পাওয়া যায়। এরই মধ্যে তৎকালীন হাসিনা সরকার যেকোনো শর্তে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা নেতাদের সঙ্গে বসতে আহ্বান জানান। তবে তারা সাড়া দেননি। এমন পরিস্থিতিতে সমন্বয়কেরা প্রথমে ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ ঘোষণা দেন। কিছুক্ষণ পরেই ঘোষণা আসে ‘৬ আগস্ট নয়, ৫ আগস্টেই মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি’ পালন করা হবে।

চূড়ান্ত অভ্যুত্থান : ৫ আগস্ট ভোর থেকেই রাজধানীতে সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীর সর্বত্র নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সকালের প্রথম প্রহর থেকে রাজধানীর পরিবেশ ছিল থমথমে। এদিন তৎকালীন আওয়ামী লীগের নানা কর্মসূচির হুঁশিয়ারি থাকলেও কোনো কর্মসূচিই দেখা যায়নি। এদিকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে লাখো জনতার ঢল প্রবেশ করতে শুরু করে। বেলা ১১টার দিকে ছাত্রদের সঙ্গে সর্বস্তরের জনতা রাজধানীর পথগুলো নিয়ন্ত্রণে নেয়। একপর্যায়ে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং দেশ ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নেন। সেদিন বিক্ষুব্ধ জনতা ও শিক্ষার্থীরা গণভবন ও সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রবেশ করেন। ভাঙচুর করা হয় রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানের মুরাল, বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন লাগিয়ে দেয় তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও এমপিদের বাড়িতে। চূড়ান্তভাবে সুচনা হয় নতুন এক অধ্যায়ের।

আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহসমন্বয়ক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকেই প্রতিটি গণআন্দোলন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জোরালো অবস্থান প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সূচনাও হয় এখান থেকেই এবং স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের মাধ্যমে তা শেষ হয়। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন চলার একপর্যায়ে ১৭ জুলাই ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হলেও আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ ঢাকায় অবস্থান নেন। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আন্দোলনটাকে সংঘটিত করা হয় এবং তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। 

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ফুয়াদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো হঠাৎ সৃষ্ট ঘটনা নয়। এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসন্তোষ, বৈষম্য, বঞ্চনা এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের বিরুদ্ধে মানুষের অন্তর্গত প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষÑ সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে এখানে এক নতুন শক্তির জন্ম হয়েছে, যা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের গ-িতে আবদ্ধ নয়।

জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদলের ১৪২ জন শহিদ হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং রাজপথে আন্দোলন সমন্বয় করেছিল ছাত্রদল। আমাদের ভাইয়েরা যখন পুলিশের গুলিতে শহিদ হয়েছেন, তখন গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। এর পরই আন্দোলন ফ্যাসিবাদ শেখ হাসিনার পতনের দিকে। 

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তীতে জুলাই গণহত্যার বিচার ও সংস্কারের মাধ্যমে আমরা একটা বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ করতে চেয়েছি। তবে আমাদের আকাক্সিক্ষত বাংলাদেশ এখনো পাইনি। তিনি বলেন, নামসর্বস্ব জুলাই উদযাপন না করে জুলাইয়ের আকাক্সিক্ষত সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি করছি। আমরা বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, শুধু নামকাওয়াস্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পালন করলে হবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাক্সক্ষা-সংস্কার বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে আছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে আছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!