সিলেট বিভাগের উন্নয়নে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সিলেটের বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন, নতুন রাস্তা নির্মাণ, প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ-ব্যবস্থা ও টিউবওয়েল স্থাপনে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। গতকাল শনিবার সিলেট সদর উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে জিআরের চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি রাজারগাঁও জামিয়ুল উলুম মাদ্রাসা ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
তিনি বলেন, সাময়িক জলাবদ্ধতা ও সেচের পানির অভাবে যেসব জমি অনাবাদি থাকে, সেগুলো চাষাবাদের আওতায় আনতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে। খাল খনন কর্মসূচিকে আরও জোরদার করে সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে সিলেটের কৃষিজমিতে সারা বছর চাষাবাদ সম্ভব হয়। মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ, কৃষি, সেচ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
চলমান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২ হাজার উপকারভোগীর প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া প্রায় ৭০০ জনকে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আব্দুল মুক্তাদির বলেন, রাজারগাঁও জামিয়ুল উলুম মাদ্রাসা ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে তিনতলাবিশিষ্ট ভবনটি মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি বন্যা বা অন্য যেকোনো দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হবে। ভবনটিতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পৃথক কক্ষ, বাথরুম এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা রাখা হয়েছে, যাতে দুর্যোগকালে নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা যায়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন