× UCB Sticker Card
রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৭:১৪ এএম

গবেষণায় তথ্য

কৃষিতে ভর্তুকি কমলে বাড়তে পারে খাদ্য মূল্যস্ফীতি

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৭:১৪ এএম

কৃষিতে ভর্তুকি কমলে বাড়তে পারে খাদ্য মূল্যস্ফীতি

দেশের কৃষি খাতে ভর্তুকি ও বাজেট বরাদ্দ কমতে থাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কৃষকদের সহায়তা না বাড়ালে খাদ্য উৎপাদন কাক্সিক্ষত হারে বাড়বে না, যার প্রভাব পড়তে পারে বাজারদরে। বর্তমান পরিস্থিতিÑ উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সংকট, আগাম বন্যা ও কমে যাওয়া ভর্তুকিÑ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ নিকটভবিষ্যতে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তা সংকট এবং উচ্চ খাদ্যমূল্যের মুখোমুখি হতে পারে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ ফুড সিকিউরিটি নেটওয়ার্ক (খানি বাংলাদেশ) প্রকাশিত ‘অ্যাগ্রিকালচারাল বাজেটিং ইন বাংলাদেশ : ট্রেন্ডস, প্রায়োরেটিস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক আউটলুক’ শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনটি বলছে, বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক খাদ্য নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে। উচ্চ খাদ্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির কারণে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী খাদ্য মূল্যস্ফীতি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ভোগান্তি বাড়িয়েছে ও প্রায় ৩০ লাখ নতুন মানুষ দরিদ্র হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রধান উপায় হিসেবে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলা হলেও প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ থেকে নেমে প্রায় ২.৪ শতাংশে এসেছে। এই ধীরগতি ভবিষ্যৎ খাদ্য সরবরাহের জন্য উদ্বেগজনক। বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কৃষি উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়ছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের হাওরের আগাম বন্যায় হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান নষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি (উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সংকট, আগাম বন্যা, কম ভর্তুকি ইত্যাদি) অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ নিকট ভবিষ্যতে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তা সংকট ও উচ্চ খাদ্যমূল্যের মুখোমুখি হতে পারেÑ এমন সতর্ক বার্তা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১-১২ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটের ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ কৃষি খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশে। একইভাবে কৃষি ভর্তুকির অংশ ৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

দেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অথচ কৃষি খাতের বাজেট ও ভর্তুকি জাতীয় বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়েনি। ফলে কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি বাজেট আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, কৃষকের কমে যাওয়া মুনাফা ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মধ্যে এ ধরনের বাজেট সংকোচন ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে। সব মিলিয়ে উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, কৃষকের কমে যাওয়া মুনাফা ও জলবায়ুজনিত ঝুঁঁকির মধ্যে এ ধরনের বাজেট সংকোচন কৃষির আধুনিকায়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!