× UCB Sticker Card
সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৬:৩৮ এএম

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৬:৩৮ এএম

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানির গতি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে শ্লথ হয়ে পড়েছে। প্রধান এই দুই বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এই খাত থেকে এবং মোট পণ্য রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই নির্ভর করে এই দুটি বাজারের ওপর। এসব বাজারে চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় দেশের শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন চাপে পড়ার আশঙ্কা করছেন শিল্প উদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) এই বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমেছে। এই চার মাসে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০৮ দশমিক ৬২ কোটি ইউরো, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ৭৫৪ দশমিক ৪৭ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমেছে ১৪৬ কোটি ইউরো। একক মাস হিসেবে গত এপ্রিল মাসে ইইউতে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ১৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানি হ্রাসের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আমদানি পতনের হার বেশি। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ইইউ বিশ্ববাজার থেকে ২ হাজার ৭৭৭ কোটি ইউরোর পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। শীর্ষ সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে চীন থেকে ইইউর আমদানি কমেছে ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ, তুরস্ক থেকে ১৬ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং ভারত থেকে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ। অন্যদিকে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ। শীর্ষ ১০ সরবরাহকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ থেকেই ইইউর আমদানি সবচেয়ে বেশি কমেছে।

এদিকে বাংলাদেশের একক বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্রেও রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য মতে, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমেছে ১৭ দশমিক ২১ শতাংশ। রপ্তানিকারকদের মতে, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্কই এই বড় পতনের প্রধান কারণ।

ওটেক্সার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ মোট ২৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ কম। এই সময়ে পোশাকের ইউনিটপ্রতি গড় মূল্য ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং রপ্তানির ভলিউম ৯ দশমিক ০১ শতাংশ কমেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদের হারের কারণে মার্কিন ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় দেশটিতে সামগ্রিকভাবে পোশাক আমদানি ১২ শতাংশ কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি কমলেও আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলো ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। একই সময়ে ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রে তাদের রপ্তানি ১ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং কম্বোডিয়া ১৪ দশমিক ০৭ শতাংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীন ও ভারতের রপ্তানিতে বড় পতন দেখা গেছে। চীনের রপ্তানি আয় কমেছে ৫০ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ভারতের কমেছে ২৮ দশমিক ০৩ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সদ্যঃসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও তা আগের ১১ মাসের ঋণাত্মক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ফলে সরকারের নির্ধারিত ৫৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে রয়েছে দেশের রপ্তানি খাত। আমদানিকারক দেশগুলোর চাহিদা সংকোচন এবং স্থানীয় পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্য কমে যাওয়া এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। ডিবিএল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এম এ রহিম বলেন, ‘নতুন অর্থবছর কেমন যাবে, তা এখনই বলা কঠিন। ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, ইউরোপের দুর্বল অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। জার্মানি ও ইউরোপের বাজার ভালো না থাকলে পোশাকের চাহিদাও বাড়বে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখাটা বেশ সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। ভিয়েতনামের রপ্তানি আয় আমাদের চেয়ে বেশি এবং সেখানে আমাদের মতো এত বেশি নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি নেই। চীন থেকে সরে আসা অর্ডারের বড় অংশ বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম ভাগ করে নিলেও দ্বিতীয় অবস্থানে টিকে থাকাটা এখন আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’ বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখার চেয়ে এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্য সংযোজন। আমরা যদি দ্বিতীয় অবস্থানে থেকেও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে না পারি কিংবা মূল্য সংযোজন বাড়াতে না পারি, তাহলে সেই অবস্থানের তেমন অর্থ থাকে না।’ মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন শুল্কনীতি, ইউরোপীয় ইউনিয়নে চীনের রপ্তানি বৃদ্ধি, ভিয়েতনামের মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সুবিধা, ভারত-ইইউ সম্ভাব্য এফটিএ, পণ্যের দরপতন এবং দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস সংকট, উচ্চ সুদহার, বিনিয়োগে স্থবিরতা ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে দুর্বল করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি, অর্থায়ন, লজিস্টিকস ও নীতিগত সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!