নিঝুম রাতে এক ফালি চাঁদের মতো কিংবা হেমন্তের ভোরে ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির-বিন্দুর মতো এক স্নিগ্ধ মায়ায় জড়ানো অবয়ব তার। তিনি শাহনাজ সুমি। রুপালি পর্দার এক নতুন দিগন্ত, যিনি গ্ল্যামারের চটকদার কোলাহলে হারিয়ে না গিয়ে মেধার গভীরতায় সাজিয়েছেন নিজের স্বতন্ত্র ভুবন। কখনো বিজ্ঞাপনের চুলে ছাঁটা সেই সাহসী মেয়ের বিদ্রোহে, কখনো ‘পাপ পুণ্য’ কিংবা ‘দামাল’-এর সেলুলয়েডের ক্যানভাসে, আবার কখনো ওটিটির পর্দায় জোরালো অভিনয়েÑ তিনি বারেবারে প্রমাণ করেছেন অভিনয় তার কাছে স্রেফ পেশা নয়, এক মায়াবী সাধনা। ক্যামেরার ঝলকানির আড়ালে একাধারে যার নৃত্যের ছন্দে দোলা লাগে দর্শকের হৃদয়ে, আবার স্বনামধন্য সংস্থায় মানুষের সেবায় বিলিয়ে দেন নিজের মেধা।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্র্যাকের হেলথ প্রোগ্রামে জয়েন করেছেন আলোচিত এই অভিনেত্রী। তার আগে শেষ করেছেন গ্র্যাজুয়েশন। চাকরি ও অভিনয় পাশাপাশি চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি। বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাইলে শাহনাজ সুমি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘যেহেতু কয়েক মাস আগে নতুন একটি পেশায় যুক্ত হয়েছি তাই আপাতত এটাই নিয়েই রুটিন মাফিক ব্যস্ততা যাচ্ছে। চাকরিটা এই মুহূর্তে বেশ উপভোগ করছি। নতুন এই জার্নি ভালো লাগছে। আমি খুবই স্বাস্থ্য সচেতন। আমার অনেক ইচ্ছে ছিল এই সেক্টরে কাজ করার। যে কারণে সুযোগ পেতেই লুফে নিয়েছি।’
হঠাৎ করে চাকরির সিদ্ধান্ত কেন, জানতে চাইলে মিষ্টি হাসির এই অভিনেত্রী বলেন, ‘হঠাৎ করে না। আমি ছোটবেলা থেকেই নাচ শিখি। ঠিকমতো পড়াশোনা করেছি। আমার ভাবনা ছিল বড় হয়ে ভালো একটি চাকরি করব। আমার জীবনের বিনিয়োগের ফিডব্যাক নেব। চাকরি আসলে ইচ্ছা ছিল না। নিজের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এসবকে কাজে লাগানোর ইচ্ছা ছিল। সেটাই করছি।’
সুমি নামের এই স্নিগ্ধ কুঁড়িটি প্রথম ফুল হয়ে ফুটেছিলেন একটি তেলের বিজ্ঞাপনে। যেখানে সমাজের চেনা ছক ভেঙে নিজের চুল কেটে এক প্রতিবাদী রূপ ধারণ করেছিলেন তিনি। সেই ছোট চুলের মায়াবী মেয়েটি যেন এক রাতেই কোটি বাঙালির হৃদয় ছুঁয়ে যায়। গ্ল্যামার দুনিয়ায় যেখানে লম্বা চুলের সৌন্দর্যকেই শ্রেষ্ঠ ভাবা হতো, সুমি সেখানে নিজের চোখের ভাষায় দেখালেন ভেতরের আত্মবিশ্বাসকে। সেই শুরু, এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
চাকরি করলেও অভিনয়ে ছেদ পড়বে না বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। এ নিয়ে সুমি বলেন, ‘গত জানুয়ারিতে ব্র্যাকে জয়েন করেছি। তার আগে কিন্তু সে রকম কাজ করিনি। আমি বছরে দু-একটা কাজ করি। বেছে বেছে কাজ করতে পছন্দ করি। যে কারণে সমস্যা হবে না। ভালো প্রজেক্ট পেলে অবশ্যই অভিনয়ে দেখা যাবে। আর এই সেক্টরে অনেকেই আছেন। মিথিলা (রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা) আপু বড় একটা উদাহরণ। আমি তাহলে কেন পিছিয়ে থাকব? চাকরির সুবাদে নতুন নতুন জায়গায় যাচ্ছি, নতুন সব অভিজ্ঞতা হচ্ছে। বিষয়গুলো খুব উপভোগ করছি। আমি যেসব চরিত্রে অভিনয় করেছি প্রতিটি চরিত্রে বৈচিত্র্য রাখার চেষ্টা করেছি। একটা জীবনে অনেকগুলো জীবন উপভোগ করার বিষয় সবসময় ছিল। চাকরির সুবাদে অনেক অভিজ্ঞতা হচ্ছে। এটা বেশ ভালো লাগছে।’
ছোট পর্দায় গুণী পরিচালক সালাহউদ্দিন লাভলুর হাত ধরে ‘সোনার পাখি রুপার পাখি’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তার মূল ধারার পথচলা শুরু। তবে সুমি নিজেকে কেবল নাটকের গ-িতে আটকে রাখেননি। বড় পর্দায় তার আগমন ঘটে আরও পরিণতভাবে। প্রখ্যাত নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘পাপ পুণ্য’ সিনেমায় চঞ্চল চৌধুরীর মতো জাঁদরেল অভিনেতার বিপরীতে তার অভিনয় ছিল সাবলীল ও প্রশংসনীয়। এরপর রায়হান রাফির ‘দামাল’ সিনেমায় ফুটবল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তার উপস্থিতি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের ভীষণ অনুপ্রাণিত করে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘মোবারকনামা’ ও ‘বুকের মধ্যে আগুন’-এর মতো ওটিটি কন্টেন্টগুলোতে তার অভিনয়ের গভীরতা প্রমাণ করেছে, সুমি কেবল রূপের জাদুকরী নন, তিনি চরিত্রের গভীরে ডুব দেওয়া এক সত্যিকারের শিল্পী।
সুমির সবগুলোই কাজই প্রশংসিত। তবে দর্শক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কাজে কম দেখা যায়। কারণ জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি কাজের চেয়ে মানে বিশ্বাসী। যে কারণে বেছে বেছে কাজ করছি। কাজের প্রস্তাব আসে না তা কিন্তু নয়। আর ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সংখ্যাও তো কম। তবে ভালো কাজ দুটি হলে সেখানে আমি ডাক পাব কিনা তারও প্রশ্ন আছে। মাঝে কাজ কিছু কম হলেও এখন বেড়েছে। চরিত্রের সঙ্গে আমাকে মানানসই হলেই যুক্ত হই। তাছাড়া কাজ করি না। কারণ, আমি দর্শকদের ঠকাতে পারব না। মাঝে মধ্যে মনে হয় কাজ কমের কারণে দর্শকদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছি কিনা। তখনই ছবি আপলোড করে সরব থাকার চেষ্টা করি। তবে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি মিস করি। যদিও এর ব্যাপ্তি আমার জীবনে খুব বেশি তা কিন্তু নয়। এখন আশায় আছি যে, পরবর্তীতে কাজ হলে তখন এমন প্রতিক্রিয়া পাব।’
ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে এতটা সাবলীলভাবে মিশে যেতে অনেকেই পারেন না। সে ক্ষেত্রে সুমি অদ্বিতীয়। এটি কীভাবে সম্ভব জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি সবসময় চরিত্রে সৎ থাকার চেষ্টা করি। প্রতিটি কাজে নিজের সেরাটা দেওয়া চেষ্টা থাকে। আমার ক্যারিয়ারের শুরুই হয়েছিল গুণী সব মানুষের হাত ধরে। সালাহউদ্দিন লাভলু স্যার, গিয়াস উদ্দিন সেলিম তারা অভিনয়টা বের করে নিতেন। তাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময়ে কাজ করে অনেক কিছু শিখেছি, যা আমার ক্যারিয়ারে ইনস্টিটিউটের মতো কাজ করছে।’
এই মুহূর্তে নতুন কয়েকটি কাজ নিয়ে কথা চলছে সুমির। তবে আপাতত এ নিয়ে বিস্তারিত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে বলা নিষেধ আছে। অচিরেই নতুন কাজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এইচএসসি পরীক্ষার পর আর নাটকে অভিনয়ে দেখা যায়নি সুমিকে। কারণ জানতে চাইলে বললেন, ‘পরীক্ষা চলাকালীন ‘পাপ পুণ্য’ সিনেমার অডিশনের ডাক পাই। পরীক্ষার পর তা চূড়ান্ত হয়। সিনেমায় কাজ করার সময় মনে হয়েছে যে, মানুষ যদি আমাকে ছোট পর্দায় দেখে তাহলে হলে গিয়ে কেন দেখবে। এ রকম একটা মিথ নিজের ভেতর ছিল। যদিও সেটা ধীরে ধীরে ভেঙেছে। তার চেয়ে বড় কারণ হচ্ছে আমি যে ধরনের নাটক করতে চাই সে রকম কাজ পাইনি। ‘সোনার পাখি রুপার পাখি’ কাজ করার আগে চর্চা করে সময় নিয়ে শুটিং করেছি। কিন্তু এখন সেই সময় নিয়ে নাটক নির্মাণ হচ্ছে না। অল্প সময়ের প্রস্ততিতে একটা কাজ করে ফেললে তার মান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে। আমি কাজ করতে চাই কিন্তু ব্যাটে বলে মিলছে না। দর্শক আমাকে যেভাবে দেখে অভ্যস্ত কিংবা প্রত্যাশা করে সেই ধরনের গল্পে যদি না আসতে পারি তাহলে দর্শক বিরক্ত হবেন। করার জন্য কাজ করতে চাই না। এ রকম কাজ করলে দর্শকদের সঙ্গে বেঈমানি হবে।’
নাটক, সিনেমা এবং ওটিটি তিন মাধ্যমেই কাজ করেছেন শাহনাজ সুমি। তার কাছে তিন মাধ্যমই ভালো লাগে। ক্যামেরার সামনে থাকতেই ভীষণ ভালো লাগে তার। ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছিলেন জুঁই নারিকেল তেলের বিজ্ঞাপন থেকে। এই প্রতিক্রিয়া সুমির কাছে খুবই অর্থবহ। বললেন, ‘সিরিজ আমার কাছে ইন্টারেস্টিং লাগে। সিরিজের মাধ্যমে অনেকখানি গল্প বলা যায় এবং এটি থেকে যায়। যখন খুশি দেখা যায়। যে কারণে ওটিটির কাজ ভালো লাগে।’
তবে ওটিটির সমালোচনা নিয়েও চিন্তিত সুমি। তবে প্রতিটি কাজ করার আগে ভেবেচিন্তে পা ফেলেন তিনি। চরিত্রটি সঠিকভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে নিজের সেরাটা দিয়ে কাজ করেন বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘দায়িত্ববোধটা আমার কাছে জরুরি। অন্যরা হয়তো সহজেই ভাইরাল হয়ে আলোচনায় থাকতে চায়। একেক জনের একেক রকম চিন্তা ভাবনা। বুকের মধ্যে আগুন, মোবারকনামাতে অনেক সাহসী চরিত্রে অভিনয় করেছি বলে আলোচনা হয়েছে। আমার কাছে এটা সাহসী না। খোলামেলা হলেই যে সাহসী তা কিন্তু নয়। এটা সাহসের বিষয় না। অনেকেই তো খোলামেলা হচ্ছেন। সাহস হচ্ছে সেটা অনেকে যেটা বলতে পারেন না কিন্তু একজন অভিনেত্রী তার অভিনয়ের মাধ্যমে দেখান। আমার কাছে চরিত্রের বার্তাটা জরুরি। আমি মোবারকনামায় যে বার্তা দিতে পেরেছি তা সফলভাবে পেরেছি। দর্শক তাদের ভালো লাগা জানিয়েছেন। সেই জায়গা থেকে বলব আমি সফল। এই কাজের মাধ্যমে সব শ্রেণির দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে চেষ্টা করেছি এবং পেরেছি। একটা বার্তা দিয়ে তাদের অনুভূতিকে আঘাত করাটাই স্বার্থকতা।’
ওয়েব সিরিজ ‘বুকের মধ্যে আগুন’ দেখে দর্শকরা এ যুগের শাবনূর আখ্যা দিয়েছিল। এই প্রতিক্রিয়া নিজেও উপভোগ করেছেন সুমি। সেই ভালো লাগার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকেই আমার আইডল। তার মধ্যে শাবনূর ম্যাম, মাধুরী দীক্ষিত অন্যতম। তারা অনেক সুন্দর যেমন দেখতে, তেমন অনেক সুন্দর অভিনয় করতেন এবং নাচতেন। অনেক সুন্দর সুন্দর চরিত্রে তারা অভিনয় করেছেন। যখন আমাকে শাবনূরের সঙ্গে তুলনা করা হয় তখন বেশ ভালো লাগে। ‘বুকের মধ্যে আগুন’ করার পর এ কথাটি অনেক বেশি শুনেছি যে, আমাকে শাবনূরের মতো লাগে। যেহেতু সবাই বলে আমাকে শাবনূরের মতো দেখতে তাই তার বায়োপিকে অভিনয় করতে চাই। অন্ধ চরিত্রে অভিনয় করার খুব ইচ্ছে। অনেকেই এমন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তবে আমি আসলে যেভাবে ভাবি সেভাবে একটি চরিত্র করতে চাই।’
অভিনয়ের পাশাপাশি সুমি একজন দক্ষ নৃত্যশিল্পী। শিশুশিল্পী হিসেবে তার নাচের যাত্রা। কেউ গ্ল্যামার নির্ভর চরিত্রে কাজ করতে চান, আবার কেউ বৈচিত্র্যপূর্ণ চরিত্রে আগ্রহী। তবে সুমি সব ঘরানা পছন্দ করেন। নিজেকে যেমন অ্যাকশন লুকে দেখতে চান, তেমনই মেকআপ ছাড়া পর্দায় নিজেকে মেলে ধরতে চান।
অনেকেই অভিনয়ের উন্নতির জন্য কর্মশালা করেন। তবে সুমি একেবারে ব্যতিক্রম। সে কথা জানিয়ে বললেন, ‘সালাহউদ্দিন লাভলুর যখন ‘সোনার পাখি রূপার পাখি’ করি তখন তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম যে, আমি আরও ভালো অভিনেত্রী কীভাবে হয়ে উঠব। তখন তিনি বলেছিলেন, যখন তুমি বুঝে ফেলবে তোমার অভিনয়টা হচ্ছে ঠিক ওই দিন থেকে তোমার আর অভিনয় হবে না। এটা সবসময় মাথায় রাখি। যে কারণে সবসময় আমি শিক্ষানবিশ ভঙ্গিতে থাকি। ব্যক্তিগতভাবে মনে করি অভিনয় উন্নতি করা জীবনবোধ। যত বেশি জীবন দেখব, যত বেশি মানুষকে জানব; যত বেশি মানুষকে বুঝব তত বেশি চরিত্রে প্রবেশে সহজ হবে।’
শুরুতে জুঁই নারিকেল তেলের বিজ্ঞাপনটি সুমি ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট ভাবলেও এ সময় এসে তার উপলব্ধি ‘সোনার পাখি রুপার পাখি’ নাটকটি তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। যে কারণে এই নাটকটিই সবসময় এগিয়ে রাখতে চান।
প্রথমবারের মতো বিটিভির ছায়াছন্দ উপস্থাপনায় দেখা যায় শাহনাজ সুমিকে। সুযোগ পেলে উপস্থাপনায় নিয়মিত হতে চান। অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি সুযোগ পাচ্ছি না। আমাকে সুযোগ দিলে যেকোনো সুযোগ ঠিকঠাক মতো কাজে লাগাতে পারব। আমি সুযোগের অপেক্ষায়।’
ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকবার তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন সুমি। তবে শুরু থেকেই তিনি বুঝেশুনে পা ফেলছেন। শুরুর দিন থেকেই নিজের হাতে ক্যারিয়ার গড়েছেন। একমাত্র পরিবারের সমর্থন সঙ্গী করে একাই লড়ে এগিয়ে গেছেন। সেইসঙ্গে ছিল প্রবল আত্মবিশ্বাস। যে কারণে কখনো কোনো কিছু তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সুমি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই নিজেকে প্রতিরক্ষা করতে শিখেছি। যেকোনো কিছুতে খুব সহজেই প্রতিহত করতে পারি। কোনো কিছু না ভেবেই সবসময় নেতিবাচক দিক এড়িয়ে গেছি। কখনো এসব ভেবে লাভ ক্ষতির হিসাব করিনি। আমার কোনো আফসোস নেই। এটা আমার বড় প্রাপ্তি।’
শোবিজপাড়ায় সিন্ডিকেট শব্দটা বেশ পরিচিত। তবে সিন্ডিকেট শব্দ বন্ধু হিসেবে দেখেন তিনি। এসব সিন্ডিকেট কখনো মেনে চলায় বিশ্বাসী না সুমি। অনেকে হয়তো এসব মেইনটেইন করে ভালো কাজ পায় তবে সেটা সাময়িক। বেশি দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। যে কারণে এসব তোয়াক্কা করেন না তিনি।
সুমির অবসার কীভাবে কাটে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি ছবি আঁকতে পছন্দ করি। সময় পেলেই প্রচুর ছবি আঁকি। নিয়মিত নাচ অনুশীলন করি। বই পড়ি। এভাবেই কাটে যায়।’ প্রেম ও বিয়ে নিয়ে ভাবনা নেই সুমির। সুমি প্রেমে বিশ্বাস করেন না। তার ভাষায়, ‘প্রেম বলতে কিছু না। আমার সবকিছু জুড়ে পরিবার। এর বাইরে কোনো কিছু সত্য না। আর বিয়ে নিয়ে ভাবছি না। বিয়েতেও আমি বিশ্বাস করি না। আপাতত কাজ নিয়েই থাকতে চাই।’
সুমি এ যুগের সেই প্রজাপতি, যার ডানায় রূপের চেয়েও বেশি লেগে আছে প্রতিভার রঙ। বিনোদন জগতের দ্রুত বদলে যাওয়া স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে মেধা, সততা আর সংযম দিয়ে নিজের একটি স্থায়ী সিংহাসন গড়ে নেওয়া যায়। শোবিজের আকাশে সুমি নামের এই নক্ষত্রটি আজীবন এভাবেই মায়াবী আলো ছড়িয়ে যাবে, এটাই দর্শকের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন