রাজধানীর লালবাগ থানাধীন আজিমপুর মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারে বাসা ভাড়ার পাওনা মাত্র ১ হাজার টাকাকে কেন্দ্র করে স্বপন (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার ভোর ৪টার দিকে স্টাফ কোয়ার্টারের ৪ নম্বর ভবনের ৮১ নম্বর ফ্ল্যাটের সামনে ও সংলগ্ন মাঠে এই ঘটনা ঘটে। এতে জড়িত সন্দেহে মূল অভিযুক্ত রিজভী ও তার চাচাতো ভাই রোহানকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার বলছে, সময়মতো বাসাভাড়া পরিশোধ না করাকে কেন্দ্র করে স্বপনকে মারধর করা হয়। আহত স্বপনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ মর্গে রাখা হয়।
নিহত স্বপন মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার তাহের ফকিরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুল মান্নান। স্বপন পেশায় একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী ছিলেন। বিভিন্ন দোকানে প্রসাধনসামগ্রী সরবরাহের ব্যবসা করতেন। বর্তমানে তিনি ও তার ভাই রাজা মোহাম্মদ সেলিম আজিমপুর মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারের নিচতলার একটি কক্ষে ৬ হাজার টাকা ভাড়ায় বসবাস করছিলেন।
নিহতের ভাই রাজা মোহাম্মদ সেলিম জানান, আমার ভাই অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। কারো সঙ্গে কখনো কোনো বিরোধে জড়াতেন না। আমরা দুই ভাই এখানে সাবলেটে (ভাড়ায়) থাকতাম। অভিযুক্ত রিজভী মাস শেষ হওয়ার আগেই আমাদের কাছে ভাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। চলতি মাসের ভাড়ার মধ্যে মাত্র ১ হাজার টাকা বকেয়া ছিল। রাতে রিজভী ওই টাকা চাইলে আমরা বলি, দু-এক দিনের মধ্যে পরিশোধ করে দেব। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রিজভী আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।
সোমবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে রিজভী ও তার চাচাতো ভাই রোহান তাদের রুমের সামনে এসে চড়াও হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বাধা দিতে গেলে তারা সেলিমকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। এরপর স্বপনকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে স্টাফ কোয়ার্টারের সামনের একটি মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি লাথি ও বুকে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর জখম করা হয় বলে অভিযোগ করেন সেলিম। মারধরের একপর্যায়ে স্বপন অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ার চেষ্টা করে।
পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ভোর ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
লালবাগ থানার এসআই মতিউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মূল অভিযুক্ত রিজভী ও তার চাচাতো ভাই রোহানকে আটক করেছে পুলিশ। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন