চিত্রনায়ক এম এ পারভেজ আবির চৌধুরীর চোখে এখন শুধু একটি স্বপ্নÍবাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পীদের বিশ্বমঞ্চে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। সম্পাদকীয় পদে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে শিল্পী সমিতির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
আবির চৌধুরী জানান, এই পদকে তিনি ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না। বরং দেশের শিল্পীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিত ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব হিসেবেই গ্রহণ করেছেন।
নির্বাচনে শিল্পীদের ভালোবাসা, সমর্থন ও ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। শিল্পীদের আস্থা ও বিশ্বাসই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি এবং অনুপ্রেরণা।
আবিরের মতে, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদটি কেবল একটি সাংগঠনিক দায়িত্ব নয়; এটি চলচ্চিত্র শিল্পীদের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র সংগঠন, উৎসব ও সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কার্যনির্বাহী সভাতেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে অন্যতম হলো পূর্ববর্তী আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের সব নথি, সরকারি ও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ, সমঝোতা স্মারক, ই-মেইল আদান-প্রদান এবং ডিজিটাল তথ্যভান্ডার সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ ও যথাযথভাবে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা। তার বিশ্বাস, কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এসব তথ্য সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
আন্তর্জাতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পাঁচ সদস্যের একটি আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেবেন তিনি। এই কমিটির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র ও শিল্পী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, সেমিনার, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে বাংলাদেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিল্পী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করাকেও অগ্রাধিকার দিতে চান তিনি। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের শিল্পীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরির দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তবে আবির স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি অবাস্তব প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নন। তার মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ, নিয়মিত পরিশ্রম, জবাবদিহিতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক বিষয়ক কার্যক্রমের অগ্রগতি ও অর্জন সম্পর্কে প্রতি তিন মাস অন্তর শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদকে প্রতিবেদন দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নতুন দায়িত্ব পালনে সবার দোয়া, পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করে এই অভিনেতা বলেন, বাংলাদেশের শিল্পীদের সম্মান, মর্যাদা ও সম্ভাবনাকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। তিনি আশা করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি সুযোগ, স্বীকৃতি ও সম্মান অর্জন করবেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে এম এ পারভেজ আবির চৌধুরী ২৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সম্পাদকীয় পদগুলোর মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ প্রাপ্ত ভোট।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন