× UCB Sticker Card
রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০২:১৬ এএম

জিম্মি নারী উদ্ধার

আশুলিয়ায় পুলিশকে গুলি ছুড়ে পালাল শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘শ্যুটার’ বাপ্পি

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০২:১৬ এএম

আশুলিয়ায় পুলিশকে গুলি  ছুড়ে পালাল শীর্ষ সন্ত্রাসী  ‘শ্যুটার’ বাপ্পি

ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় এক নারীকে জিম্মি করে তাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পুলিশের ওপর গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে গেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘শ্যুটার বাপ্পী’। মূলত চাঁদার দাবিতে মালিক পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করতেই ওই ভবনের নারী কেয়ারটেকারকে জিম্মি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশের অভিযানে ওই নারীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া চৌধুরী প্লাজায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘শ্যুটার বাপ্পি’ ও তার সহযোগীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে তাদের সামনেই এক নারীকে জিম্মি করে পালিয়ে গেছে বাপ্পি।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, চৌধুরী প্লাজার একটি ভবনে শীর্ষ সন্ত্রাসী শ্যুটার বাপ্পি ও তার সহযোগীদের অবস্থানের কথা জানতে পেরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাপ্পি ও তার সহযোগীরা গুলি ছোড়ে; পুলিশও তখন পাল্টা গুলি চালায়। এরপর ১২টার দিকে এক নারীকে জিম্মি করে বাপ্পি ওই ভবন থেকে পালিয়ে যায়। ওসি বলেন, আমরা যদি তখন গুলি করতাম বা তাকে আটকের চেষ্টা করতাম, তাহলে ওই নারীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ত। শুধু সে কারণেই আর গুলি করা হয়নি। আমাদের সফলতা হচ্ছে, আমরা সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় জিম্মিকে উদ্ধার করতে পেরেছি। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত ও বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, জামগড়া এলাকায় শরীফ চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির ভবনের কেয়ারটেকার লিমার কাছে চাঁদা দাবি করতে শনিবার সকাল ৭টার দিকে তিন সহযোগীসহ সেখানে আসে শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পী। ওই ভবনে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছেÑ এমন তথ্য থাকায় জিম্মি লিমাকে নিয়ে বাপ্পী বিভিন্ন লকার খুলে টাকা খোঁজার চেষ্টা করে, কিন্তু কোনো টাকা পায়নি। এরই মধ্যে ভবনের মালিক পক্ষ লিমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে না পেয়ে কোনো বিপদে আছেন এমন ধারণা থেকে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশের একটি দলসহ মোট তিনটি টিম ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভবনের ভেতর থেকে লিমাকে সামনে ঢাল হিসেবে ধরে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে শ্যুটার বাপ্পী। এ সময় পুলিশও জিম্মির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরিস্থিতির একপর্যায়ে জিম্মিকে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বাপ্পী।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সন্ত্রাসীরা মোট চারজন এলেও ভবনের ভেতরে ছিল একজন (বাপ্পী)। সে ভেতর থেকেই পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। বাপ্পীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগেও জামগড়া এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সঙ্গে গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়েছিল বাপ্পির বাহিনী। কারা এখানে এসেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ইতিমধ্যে আমরা পেয়েছি। কত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে, কীভাবে সে পালিয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ তদন্তসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

উদ্ধার হওয়া চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের নারী ম্যানেজার লিমা জানান, সকালে কয়েকজন ব্যক্তি ভবনে প্রবেশ করে তার, স্যানিটারি মিস্ত্রি ও গৃহকর্মীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরে তাকে অফিসে নিয়ে লকার খুলতে এবং টাকা দিতে চাপ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের মালিক শরীফ চৌধুরীর কাছে চাঁদা দাবি করা হলেও টাকা না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আটকে রাখা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হলে তিনি প্রাণ বাঁচাতে ওয়াশরুমে আশ্রয় নেন। তার দাবি, প্রথমে তিনজন এবং পরে আরও দুজন ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। তিনি শাহীন, বাপ্পি, কামরুল ও ইকবাল নামে চারজনকে শনাক্ত করতে পেরেছেন বলেও জানান।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক শরীফ চৌধুরীর স্ত্রী অভিযোগ করেন, বাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। ঘটনার দিন তার স্বামীর কাছে প্রথমে এক কোটি এবং পরে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় কর্মচারীদের জিম্মি করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তার নারী ম্যানেজারকে সামনে রেখে গুলি চালানো হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

ঘটনাস্থলের ব্যবসায়ী পারভেজ বলেন, আমি দোকানে ছিলাম। হঠাৎ দেখি একজন ভবনের ছাদ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে তিন থেকে চার রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। আমরা খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। স্থানীয় শামসুল আলম বলেন, পুলিশ ওপরে যাওয়ার পর চার থেকে পাঁচটি গুলির শব্দ শুনেছি। তবে কারো গায়ে গুলি লাগেনি।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, ঘটনার আগের রাতেও বাপ্পি ওই ভবনে অবস্থান করেছিল। কোনো কারণে ভবনের লোকজনের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তাদের দাবি, ভবনের একটি কক্ষে ইয়াবা সেবনের কিছু সরঞ্জামও পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!