× UCB Sticker Card
রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০২:১৮ এএম

‘উল্টো রথযাত্রা টার্গেট করে’ বোমাটি পাতা হয়

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০২:১৮ এএম

‘উল্টো রথযাত্রা টার্গেট  করে’ বোমাটি পাতা হয়

রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরের মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধার করা যে ‘শক্তিশালী বোমাটি’ (আইইডি) পুলিশ নিষ্ক্রিয় করেছে, সেটি পাতা হয়েছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টোরথ যাত্রার পথে। রথযাত্রার শোভাযাত্রাটি যখন সেই বোমাপাতা পথ অতিক্রম করছিল, তখন পুলিশ সেটি ঘিরে রেখেছিল। আর শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের উদ্দেশে পুলিশের ভাষ্য ছিল, ‘এখানে শর্ট সার্কিট হয়েছে।’ এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। ‘উল্টো রথযাত্রা টার্গেট করে’ সেখানে বোমাটি পাতা হয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। বোমাটি আগেই শনাক্ত করতে পারায় বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে।

মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে নিষ্ক্রিয় করা শক্তিশালী বোমাটি (আইইডি) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রার পথে পাতা হয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। রথযাত্রার শোভাযাত্রা ওই পথ অতিক্রম করার সময় বোমাটি ঘিরে রাখে পুলিশ। পরে সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। পুলিশের ধারণা, উল্টো রথযাত্রা লক্ষ্য করেই সেখানে বোমাটি পেতে রাখা হয়েছিল। তবে আগেই বোমাটি শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে পারায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, উল্টো রথযাত্রা টার্গেট করে ওই বোমা পাতা হয়েছিল।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ শামসুল হক জানান, ছাতার সঙ্গে বোমাটি এমনভাবে লাগানো ছিল যে, ছাতাটি ফোটালেই বিস্ফোরণ হতো। তাতে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত। তবে কারা করেছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এ ঘটনার পেছনে কারা আছে এবং তাদের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থা তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এ ঘটনায় মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মুক্তা বাদী হয়ে বিস্ফোরক দব্য আইনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেছেন।

পুলিশ বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, মামলার বাদী উল্টো রথযাত্রার নিরাপত্তায় ‘হোন্ডা মোবাইল’ কল সাইনে ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন। উল্টোরথ যাত্রার শোভাযাত্রাটির রুট ছিল ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে স্বামীবাগ আশ্রম পর্যন্ত। সন্ধ্যার দিকে ট্রাফিক বিভাগ থেকে ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে সেখানে একটি বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়ার কথা জানানো হয়। একটি ছাতার মধ্যে রাখা ওই বোমায় মিটমিট করে আলো জ¦লার কথা বলা হয়। এরপর খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে এসআই মুক্তা ও তার সহকর্মীরা ৬টা ২০ মিনিটে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের জেনারেটর রুমের পাশে উপস্থিত ‘ছাতাবোমা’ পাওয়ার জায়গাটি ঘিরে রাখেন। সেখানে রথযাত্রার মিছিল উপস্থিত হলে পুলিশ সদস্যরা ‘শর্ট সার্কিট’ হয়েছে বলে জায়গাটি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। এরপর মিছিলটি শাপলা চত্বর হয়ে স্বামীবাগ আশ্রমের দিকে চলে যায়। শোভাযাত্রা চলে যাওয়ার পর বিএনপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা এসে সেটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে বলে মামলায় বলা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বোমার আলামত হিসেবে জিআই পাইপের খ-িত অংশ, ব্যাটারি, বিয়ারিংয়ের বল পাওয়ার কথা মামলায় উল্লেখ করেছে পুলিশ।

ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল জানায়, ওটা ছিল একটা পাইপ বোমা (আইইডি বা ইম্প্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস)। এর ভেতরে দেড় কেজির মতো সালফার ছিল, আর ছিল প্রচুর তারকাঁটা ও ধারালো লোহার টুকরো। ব্যাটারি ও সার্কিট জোড়া দিয়ে ডিভাইসটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে কেউ ছাতা খোলার জন্য বোতামটি চাপলে এটা বিস্ফোরিত হতো। তখন লোহার টুকরোগুলো স্পিøন্টার হয়ে আশপাশের লোকজনকে ক্ষতবিক্ষত করত।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, উল্টো রথযাত্রা টার্গেট করে ওই বোমা পাতা হয়েছিল। মামলায় বলা হয়েছে, সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনগণের জীবন বিপন্ন করার লক্ষ্যে বোমাটি সেখানে পাতা হয়েছিল।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, রথ শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বোমাটি রাখা হয়েছিল বলে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, এ কারণে বোমাটি পাতা হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত চলছে।

এদিকে শুক্রবার রাতে ওই বোমা নিষ্ক্রিয়করণের সময় একজন পথচারী আহত হয়েছেন। ৬৬ বছর বয়সি মিরাজ আহমেদ নামের ওই ব্যক্তি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী। তার বাম চোখে স্পিøন্টার লেগেছে। রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে আগারগাঁওয়ে চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।

গত শুক্রবার ঘটনার পরপরই ডিএমপির মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী জানিয়েছিলেন, মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি পরিত্যক্ত ছাতার মধ্যে ‘ককটেল পাওয়া গেছে’। তিনি বলেছিলেন, ছাতার ভেতরে থাকা লাইট জ¦লতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পরে আমরা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলি এবং বোম ডিসপোজাল ইউনিট এসে তা বিস্ফোরণ ঘটায়। কারা সেখানে বোমাটি ফেলে গেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের একজন কর্মকর্তা গত শুক্রবার রাতে জানিয়েছিলেন, মেট্রো স্টেশনের নিচে ওই বিএমডব্লিউ ছাতার মধ্যে পাতা ছিল একটি শক্তিশালী ‘পাইপবোমা’। কেউ কৌতূহলবশত ছাতাটি খোলার জন্য বোতাম টিপলেই বড় ধরনের বিপদ হতে পারত।

আনসার সদস্যের তৎপরতায় মতিঝিলে ঠেকানো যায় বড় দুর্ঘটনা : এদিকে, স্টেশনে একটি সক্রিয় ইম্প্রভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করার ঘটনায় গত শুক্রবার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাহিনীর দায়িত্বরত সদস্যদের তাৎক্ষণিক সতর্কতা, বিচক্ষণতা ও পেশাদারিত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য এক বড় ধরনের নাশকতামূলক দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। দ্রুত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ, সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সহায়তায় আইইডিটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

বাহিনীটি জানায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টায় মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে দায়িত্বরত আনসার প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি) মো. রোকনুজ্জামান একটি সন্দেহভাজন বস্তু দেখতে পান এবং এটি একটি সক্রিয় আইইডি হিসেবে শনাক্ত করেন। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্টেশন কন্ট্রোলারকে অবহিত করেন। ঘটনার সময় স্টেশনসংলগ্ন সড়ক দিয়ে একটি শোভাযাত্রা অতিক্রম করছিল। পরিস্থিতির তীব্রতা অনুধাবন করে সেখানে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মো. আশরাফুল এবং এপিসি মো. রোকনুজ্জামান দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠেন। তারা উপস্থিত সাধারণ জনগণ ও শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের দ্রুত সতর্ক করেন এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের নির্দেশনা দেন। তাদের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া রোধ হয় এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!