× UCB Sticker Card
রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রেজাউল করিম মানিক, রংপুর

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৩:০৬ এএম

রংপুরের গঙ্গাচড়া

তিস্তার ভাঙনে নিঃস্ব মানুষ

রেজাউল করিম মানিক, রংপুর

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৩:০৬ এএম

তিস্তার ভাঙনে নিঃস্ব মানুষ

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী কাচারিপাড়া এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত একটি প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ ভেঙে গত কয়েক দিনে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে তিস্তা নদীর তীব্র ¯্রােতের মুখে ১১টি পরিবারের বসতভিটা এবং অন্তত ৫০ একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আকস্মিক এই ভাঙনে নোহালী গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। ভিটামাটি হারানোর আশঙ্কায় এলাকার বহু মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ির টিন, দরজা-জানালা ও বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী খুলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ও নদীপাড়ের শতাধিক পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তা ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজেদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ও ভিটামাটি রক্ষার্থে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে একটি বাঁধ নির্মাণ করে আসছিলেন। কিন্তু গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানির উচ্চতা ও তীব্রতা বাড়লে সেই বাঁধে ভাঙন ধরে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ার পর থেকেই তারা বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সময়মতো কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অবহেলার কারণে বাঁধটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি এবং মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়িগুলো নদীর পেটে চলে যায়। যাদের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে, তাদের অনেকে আজ সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভিটামাটি রক্ষায় আমরা নিজেদের শ্রম দিয়ে বাঁধ দিয়েছিলাম। কিন্তু পাউবোর উদাসীনতার কারণেই আজ আমাদের এই পরিণতি। এখনই পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ না করলে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে। আরেক বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, নদীভাঙন এখনো থামেনি। দ্রুত সরকারিভাবে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গ্রামের শতাধিক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে যাবে।

নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী জানান, অব্যাহত ভাঙনে ১১টি পরিবারের ঘরবাড়ি ও বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি তিস্তায় চলে গেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জানানো হয়েছে।

রংপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ভাঙনের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে ইতিমধ্যে ৪ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। জনগণের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ইউএনও জেসমিন আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঠিক তালিকা প্রস্তুতকরণের কাজ প্রায় শেষের পথে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সার্বিক সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে সরকারি সহায়তা প্রদানের সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নদীপাড়ের সাধারণ মানুষ দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!