ভুয়া ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করে সর্বশেষ ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিনিয়োগকারীদের শতকোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করে ব্রোকারেজ হাউস সালতা ক্যাপিটাল। ডিএসইর আকস্মিক পরিদর্শনে তাদের কনসোলিডেটেড কাস্টমার্স অ্যাকাউন্টে (সিসিএ) ঘাটতি ধরা পড়ে। এরপর বিএসইসির গঠিত তদন্ত কমিটির গত ২১ মের প্রতিবেদনে প্রমাণ মেলে সালতা ক্যাপিটালের ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও অর্থ লোপাটের। মূলত সিডিবিএল সিস্টেমে গ্রাহকের মোবাইল ফোন নম্বর পরিবর্তন করে নিজেদের নম্বর যুক্ত করে অর্থ লোপাট করা হয়। শুধু সালতাই নয়, ২০১৯-২৫ সালের মধ্যে ডুপ্লিকেট সফটওয়্যার ব্যবহার করে মোট সাতটি ব্রোকারেজ হাউস আত্মসাৎ করেছে প্রায় ৪৫ হাজার বিনিয়োগকারীর ৬৫০ কোটি টাকার বেশি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।
জানা যায়, বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ার লোপাট ঠেকাতে ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে অপরিবর্তনযোগ্য ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার চালুর নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তথ্য সুরক্ষা ও অনিয়ম রোধ করাসহ লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু ডেটা মাইগ্রেশন, স্বয়ংক্রিয় নোটিফিকেশন, নিয়ন্ত্রক প্রতিবেদন দাখিল এবং পুরোনো-নতুন সফটওয়্যার একসঙ্গে ব্যবহারের কারণে এখনো ঘটছে অর্থ ও শেয়ার লোপাটের ঘটনা। এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যেসব জায়গায় ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে সফটওয়্যারটি পুরোপুরি কার্যকর থাকলে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটত না। এরপর এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ব্রোকারেজ হাউসসহ স্টক এক্সচেঞ্জের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদেরও হতে হবে সচেতন।
ডিএসইর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮০টি ব্রোকারেজ হাউসে নতুন সফটওয়্যার বসালেও ডেটা মাইগ্রেশন অসম্পূর্ণ। ১১৮টি হাউসে গ্রাহক তালিকা ও ১০২টিতে লেজার-পোর্টফোলিও স্থানান্তর হয়নি। ২৪টি প্রতিষ্ঠান এখনো পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করছে এবং ১৩টি দৈনিক পোর্টফোলিও পাঠায় না। এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় নোটিফিকেশনেও ঘাটতি ব্যাপক; তথ্য পরিবর্তন ও ফান্ড লেনদেনে যথাক্রমে ১৩৫ ও ১২২টি হাউস গ্রাহকদের দিচ্ছে না কোনো এসএমএস বা ই-মেইল। এদিকে, সফটওয়্যার সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ২৮৪টি ব্রোকারেজ হাউসের মধ্যে ১৪৮টিতে গ্রাহক তালিকা এবং ৮১টিতে প্রয়োজনীয় তথ্য পুরোপুরি স্থানান্তর হয়নি। ৬৯টি প্রতিষ্ঠানে ফান্ড লেনদেনের স্বয়ংক্রিয় নোটিফিকেশনে ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া আর্থিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ১৩৩টি স্টেকহোল্ডার এখনো তৈরি করতে পারছে না কনসোলিডেটেড কাস্টমার্স অ্যাকাউন্ট (সিসিএ) সমন্বয় রিপোর্ট।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেছেন, বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউস সফটওয়্যারটি পুরোপুরি কার্যকর করতে পারেনি। তাদের এ কাজ চলমান আছে। ডিএসই বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিএসইসিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আশা করছি বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে। এবড়মৎধঢ়যরপজবভবৎবহপব
এ ছাড়া সফটওয়্যার সংযোজনকারী সিগনাস ইনোভেশন (এক্সব্রোকার) ও অ্যাডাসফট ইন্টারন্যাশনালের (সিস+) অধীনে থাকা বেশির ভাগ ব্রোকারেজ হাউসে মাইগ্রেশন এবং নোটিফিকেশন-সংক্রান্ত সমস্যা বেশি হয়েছে। সিসিএ সমন্বয় রিপোর্ট তৈরি করতে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো অপারগ। আর ইউনাইটেড করপোরেট অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস (ইউব্রোকার), অরেঞ্জ সলিউশনস (জাব-ইআরপি), লিডসফট বাংলাদেশ (ক্যাপিটা), লঙ্কাবাংলা ইনফরমেশন সিস্টেম (এনজিবিও), ডেটাসফট সিস্টেমস বাংলাদেশ ও সিটিজিসপ ডটকমের (ব্ল্যাকহোল) দেওয়া সফটওয়্যারেও রয়েছে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন