× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৩:২৬ এএম

বিদায়ী অর্থবছরে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৩:২৬ এএম

বিদায়ী অর্থবছরে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি

দুই মাস ছাড়া ১০ মাসই পণ্য রপ্তানি কমেছে। তার ফলে স্বাভাবিকভাবেই অর্থবছর শেষে পণ্য রপ্তানি নেতিবাচক ধারা থেকে বেরোতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল বৃহস্পতিবার পণ্য রপ্তানির এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় ফিরতে পারেনি। তবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল ও হিমায়িত পণ্যে প্রবৃদ্ধি আছে।

বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জুলাইয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পরের মাস থেকে রপ্তানি কমতে থাকে। টানা আট মাস কমার পর গত এপ্রিলে রপ্তানি বৃদ্ধি পায় প্রায় ৩৩ শতাংশ। তারপরের দুই মাসে আবার কমেছে। গত অর্থবছরে চার মাস চার বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি হয়েছে। অন্য মাসগুলোয় তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি হয়। সব মিলিয়ে অর্থবছরের ১২ মাসে রপ্তানি হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের পণ্য। তার আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে দেশে সব পণ্যের বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন (৪২০ কোটি) মার্কিন ডলার। আগের বছরের একই মাসে এই রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩ দশমিক ৩৪ (৩৩৪ কোটি) বিলিয়ন ডলার। এই হিসেবে সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। মূলত তৈরি পোশাক (আরএমজি) থেকে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়ায় গত জুন মাসের আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সার্বিক রপ্তানিতে এই বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। সদ্য বিদায়ী জুন মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন (৩৩৯ কোটি) ডলার। আগের বছরের একই মাসে যা হয়েছিল ২ দশমিক ৭৯ (২৭৯ কোটি) ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে গত জুন মাসে পোশাক থেকে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ। সার্বিকভাবে বিদায়ী অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয় কমার ক্ষেত্রেও তৈরি পোশাকশিল্পের সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক ভূমিকা ছিল। আলোচিত অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ (৩ হাজার ৮৭০ কোটি) ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পোশাক থেকে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন (৩ হাজার ৯৩৫ কোটি) ডলার। গত অর্থবছর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৭ শতাংশ। এ সময়ে ১২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তার আগের বছরে রপ্তানি হয়েছিল ১১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। গত মাসে ৮ কোটি ৭২ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ ছাড়া তামাকজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় কমেছে ২১ দশমিক ৩৬ শতাংশ, চা থেকে কমেছে ১৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ, সিরামিক থেকে কমেছে ১৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, হস্তশিল্প বা কারুশিল্প থেকে কমেছে ১৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং পাট রপ্তানি থেকে ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ রপ্তানি আয় কমেছে। সার্বিকভাবে রপ্তানি কমার মধ্যেও গত অর্থবছরে বেশ কয়েকটি খাত সম্ভবনাময় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে জাহাজ শিল্পে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬৬৬ শতাংশ। এ ছাড়া, ফল, বাইসাইকেল এবং ইলেকট্রনিক পণ্যসহ অনেক খাতে ব্যপক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম দুই উৎস প্রবাসী আয় ও পণ্য রপ্তানি। বিদায়ী অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয় আসে ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। এই আয় তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি আমদানি কম হওয়ার কারণে গত মাস শেষে বিপিএম-৬ অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। তবে রপ্তানি বেশি হলে রিজার্ভ আরও বেশি হতো।

তৈরি পোশাকের রপ্তানিকারকেরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানিতে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। এতে তৈরি পোশাকের বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি ধাক্কা খায়। শুধু তাই নয়, ইউরোপের বাজারেও তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়েন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা। ইরান যুদ্ধ শুরু হলে সংকট আরও প্রকট হয়। ফলে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে গেছে। এর প্রভাবে শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধ বাড়ছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!