বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও স্থানীয়দের কঠোর প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। সীমান্তের আলো বন্ধ করে তারা ঠেলে পাঠানো ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। দেশের সীমান্তের ছয় পয়েন্ট দিয়ে ৮৩ জন ভারতে ফেরত গেছেন। এদিকে পঞ্চগড় সীমান্ত দিয়ে পুশ ইনের চেষ্টার পর শূন্যরেখায় অবস্থান নেন ১০ নারী, পুরুষ ও শিশু। দুই দফা পতাকা বৈঠকেও এর সমাধান হয়নি। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ
সাপাহারে আলো নিভিয়ে ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ : নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকায় শিশুসহ ১৭ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। শুক্রবার রাত ১টার দিকে সীমান্তের আলো বন্ধ করে তাদের শূন্যরেখা থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। গতকাল শনিবার দুপুরে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে নারী-শিশুসহ ১৭ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে এই চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সতর্ক অবস্থান নেন বিজিবি সদস্যরা।
কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টরচালক মাহবুব আলম বলেন, ‘ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিলেন। রাত ১১টার দিকে আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম, তখনো বিজিবির সদস্যরা সেখানে ছিলেন। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদের টেনেহিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যান। তারা বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যেতে চাচ্ছিলেন না, অনেক কান্নাকাটি করছিলেন।’
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন-১৬ বিজিবির অধিনায়ক বলেন, শুক্রবার রাত ১টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের আলো বন্ধ করে দেন। তারা ঠেলে পাঠানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে এরপর ওই ১৭ জনকে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গোমস্তাপুরে শূন্যরেখায় নেই ২৮ জন : চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা ২৮ জনকে গতকাল শনিবার সকাল থেকে শূন্যরেখায় আর দেখা যাচ্ছে না। বিজিবির প্রতিরোধের মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে গত দুই দিন শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন। বিজিবির ধারণা, শুক্রবার রাতের আঁধারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়েছে। ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ওই ২৮ জন ভারতের ভেতরে শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে অবস্থান করছিলেন। বর্তমানে সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে তাদের অবস্থান বা চলাচল আর পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার গভীর রাতের কোনো একসময়ে বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।
এর আগে ৪ জুন ভোররাত ৩টার দিকে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জন বাংলাদেশিকে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির সতর্ক অবস্থান ও তাৎক্ষণিক তৎপরতার কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে ওই ব্যক্তিরা শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে দুই দিন ধরে ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে অবস্থান করছিলেন।
পঞ্চগড়ে ১০ জনের বিষয়ে দুই দফা পতাকা বৈঠকেও হয়নি সমাধান : পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ১০ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে। এরপর তারা শূন্যরেখায় অবস্থান নেন। শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে শনিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত কোনো দেশই তাদের সীমান্তে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাদের খোলা আকাশের নিচে ফসলি জমির আলে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এ সময় দুই পাশে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
শূন্যরেখায় অবস্থান করা ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুজন নারী ও তিনজন শিশু। শুক্রবার দিবাগত রাতে বজ্রবৃষ্টির সময়ও তারা সেখানে ছিলেন। শূন্যরেখায় ফসলি জমির যে আলটিতে তারা বসে আছেন, সেখানেও পানি জমেছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী দুই দফা পতাকা বৈঠকে বসলেও কোনো সমাধান আসেনি।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে বাংলাদেশের নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এবং ভারতের ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মধ্যে কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় আধা ঘণ্টার ওই পতাকা বৈঠকেও কোনো সুরাহা হয়নি। এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিজিবির বড়বাড়ি বিওপি এবং বিএসএফের সাকাতি ক্যাম্পের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভারতে ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডারের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করেছি। সেখানে আমি তাদের ফেরত নিতে রিকোয়েস্ট করেছি। কিন্তু তারা (বিএসএফ) বলেছে যে, ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক, তাদের নিতে পারবে না। আমি বলেছি যে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ছিলেন, ইন্টারন্যাশনাল ল (আইন) মেনে তাদের আইসিপি (ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট বা সমন্বিত চেকপোস্ট) দিয়ে ফেরত পাঠানো উচিত। কারণ, রাতের অন্ধকারে বর্ডার ক্রস করে ঠেলে দেওয়া অমানবিক হয়ে যাচ্ছে। তারা খুবই কষ্ট পাচ্ছেন। রাতের বেলা বৃষ্টির মধ্যে ছিলেন, বজ্রপাত ছিল। এভাবে তো মানুষকে বিপদের মধ্যে ফেলে দেওয়া ঠিক নয়।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘তারপর তারা (বিএসএফ) বলেছে যে, তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবে, জানাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের ফেরত নিতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আমরাও আমাদের পজিশন তাদের স্পষ্ট করেছি যে আমরা এভাবে কাউকে গ্রহণ করব না।
হরিপুরে ১১ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা : ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত এলাকা দিয়ে নারী, শিশুসহ ১১ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি বলে দাবি করেছে বিজিবি। গতকাল শনিবার ভোরে মশালগাঁও সীমান্তের ৩৪৯ নম্বর মেইন পিলারের ৭ নম্বর সাব-সীমান্ত পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সীমান্তের ভারতীয় ভূখ-ে ওই ১১ জনকে অবস্থান করতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৪টি শিশু ও ৪ জন নারী আছেন। ঘটনার পর সীমান্তের উভয় পাশে বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। দুপুর পর্যন্ত ওই সব ব্যক্তি ভারতের ভূখ-ের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে বিজিবির মশালগাঁও ক্যাম্প ও বিএসএফের বাহারগাঁও ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডারদের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত সীমান্তের শূন্যরেখায় চলে বৈঠকটি। তবে বৈঠকে কোনো সমাধান না হওয়ায় বিকেল পর্যন্ত ওই ব্যক্তিরা নো-ম্যানস ল্যান্ডসংলগ্ন ভারতের ভূখ-ে অবস্থান করেন।
দিনাজপুর-৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, ‘বিএসএফ দাবি করছে, ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক। তবে আমরা এখনো তাদের পরিচয় যাচাই করতে পারিনি। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’
বিরামপুরে বাধার মুখে প্রবেশ করতে পারেননি ৫ জন : দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্ত দিয়ে পাঁচজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে তারা প্রবেশ করতে পারেননি। শনিবার ভোরে উপজেলার চৌঘুরিয়া সীমান্ত পিলারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতীয় নাগরিককে ঠেলে পাঠানো প্রতিরোধে বিজিবির সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। শনিবার ভোর তিনটার দিকে বিরামপুর উপজেলার ২ নম্বর কাটলা ইউনিয়নের চৌঘুরিয়া সীমান্তে ২৮৮/৩০ এস পিলার থেকে আনুমানিক ২২০ গজ দক্ষিণে ও ভারতের ৭৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের নর্থ আগ্রা ক্যাম্পের পাশে ভারতের ভেতরে একটি ফাঁকা মাঠে পাঁচজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে আসতে দেখা যায়। এ সময় সেখানে টহলরত বিজিবি সদস্যরা বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে তাঁদের সতর্ক করেন। বাঁশির শব্দ শুনে তারা কাশবনে লুকিয়ে পড়েন। পরে ওই পাঁচজন ভারতের বিএসএফ ক্যাম্পের দিকে চলে যান। গতকাল সকালে ভারতীয় নাগরিকদের ঠেলে পাঠানো ঠেকাতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
চৌঘুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক (৭২) বলেন, ‘ভারতের বিএসএফ যদি ভারতের নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়, তাহলে আমরা বিজিবির সঙ্গে সহযোগিতা করে তাদের আবার ভারতে ফেরত পাঠাব।’
এ বিষয়ে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের (২০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী বলেন, ‘গতকাল ভোরে চৌঘুরিয়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক ২২০ গজ দূরে ভারতের অভ্যন্তর থেকে পাঁচজনকে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখা যায়। পরে বিজিবির সদস্যরা তাদের সতর্ক করলে তারা ভারতে চলে যান।’
গাংনীতে সাতজনকে ঠেলে পাঠানো ঠেকিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয়রা : মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে সাতজনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী। তাদের বাধার মুখে ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের ভূখ-ে প্রবেশ করতে না পেরে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান নেন। গতকাল শনিবার ভোরে সীমান্তের ১০৪ নম্বর মেইন পিলারের ৫ নম্বর সাব-পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং বাহিনীটি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে।
তেঁতুলবাড়িয়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ প্রবেশ বা পুশ ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এ বিষয়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
লালমনিরহাটে তিন পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জনকে ফেরত : লালমনিরহাটে সীমান্তের তিন পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ নারী-পুরুষকে বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি। সীমান্তে কঠোর অবস্থান, অতিরিক্ত টহল ও সার্বক্ষণিক নজরদারির মুখে বিএসএফ পুশ ইনের চেষ্টা করা সব ব্যক্তিকেই নিজ ভূখ-ে ফিরিয়ে নিয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে জেলার তিনটি পৃথক সীমান্ত পয়েন্টে মোট ৩৩ সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) বড়খাতা সীমান্তে ১১, পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে ১০ এবং আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী-দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় ১২ জন ছিলেন।
সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন এবং কৌশলগত অবস্থান নিয়ে তাদের প্রবেশে বাধা দেয় বিজিবি। ফলে দিনভর তারা শূন্যরেখা ও ভারতীয় সীমান্তে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। গতকাল শনিবার সকালে পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ৮৪৬/১-এস মেইন পিলার এলাকায় অবস্থানকারী বাকি ১০ জনকে সরিয়ে নেয় বিএসএফ।
এর আগে শুক্রবার রাতে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বুড়া সারডুবি সীমান্তের ৮৮৬ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় অবস্থানকারী ১১ জনকে ভারতের ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ছোট মধুসূদন ক্যাম্প সদস্যরা তারকাঁটার অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যান। একই রাতে আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানকারী ১২ জনকেও বিএসএফ সার্চলাইট বন্ধ করে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নেয়।
রংপুর সেক্টর সদর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈধ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন এলাকা ও ফেন্সিং গেট ব্যবহার করে দেশে লোকজন প্রবেশ করানোর চেষ্টা আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থি।
রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশ ইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

