জুলাই বিপ্লব নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও শান্তা ফারজানার বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আনম আয়াস ও তুহিন ফরাজী এবং কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহাম্মদ শাহ আলম বাদশা জিডিটি করেন।
শাহবাগ থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আনম আয়াস ও তুহিন ফরাজী এবং কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহাম্মদ শাহ্ আলম বাদশা থানায় যান এবং তারা শাওন ও মাহির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। তারা সেই অভিযোগে জুলাই আন্দোলন সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য ও পোস্টের বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন। পুলিশ সেটি গ্রহণ করেছে, যা পরবর্তীতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। এখন সাইবার বিভাগ তদন্ত করবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে গ্রেপ্তার হতে পারেন শাওনসহ অভিযুক্ত তিন নারী।
গতকাল শনিবার ডিএমপির শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং শান্তা ফারজানার বিরুদ্ধে জুলাই নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও অপপ্রচারের অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। অভিযোগ যেহেতু সাইবার-সংক্রান্ত, তাই তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সাইবার ইউনিট বরাবর অভিযোগের বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। তারা তদন্ত করবে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শাহবাগ থানায় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও শান্তা ফারজানার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল হয়েছে শুনেছি। অভিযোগটি সাইবার অপরাধ সম্পর্কিত। কিন্তু এখনো এ-সংক্রান্ত কোনো নথি আমাদের কাছে আসেনি। নথি এলে আমলে নিয়ে আমরা তদন্ত করব এবং আইন অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
ডিবি দক্ষিণ সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিটের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তদন্ত করব, সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগপত্রে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আনম আয়াস, তুহিন ফরাজী এবং কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহাম্মদ শাহ্ আলম বাদশা এই আবেদন করেছেন।
প্রথমত, শান্তা ফারজানা নামে এক নারী জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ/আঘাত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তার ফেসবুক লিংকে প্রকাশ করেছেন বলে দেখা যায়, যা শহিদদের স্মৃতির প্রতি অবমাননাকর এবং জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
দ্বিতীয়ত, মেহের আফরোজ শাওন বিভিন্ন ভিডিও বার্তা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিংকে জুলাই আন্দোলনকে পরিকল্পিত বা সাজানো ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং রাষ্ট্র ও জুলাই আন্দোলন সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তৃতীয়ত, মাহিয়া মাহী তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিংকে এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যেখানে তিনি জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনকে কটাক্ষ করে তাদের অভিনয় করার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার বক্তব্যে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী এবং অন্য সংশ্লিষ্টদের হেয় করা হয়েছে বলে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
অতএব, উপরোক্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার নিকট বিনীত আবেদন জানাচ্ছি। আমরা রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনের আওতায় আনার এবং বাংলাদেশের আইন, শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ২০২৪ সালের জুন-জুলাইয়ের ওই আন্দোলনই ‘জুলাই আন্দোলন’ নামে পরিচিত।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন