ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি

শাস্তির বিধান রেখে সংসদে বিল পাস

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৬:০৭ এএম

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি, পরীক্ষার ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদ-ের বিধান রেখে একটি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ শীর্ষক এ বিল পাস হয়।

এতে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ বা ডিজিটাল কারসাজির সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষার ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, পরিবর্তন, সংশোধন, মুছে ফেলা বা লুকানোর মতো জালিয়াতি ডিজিটাল কারসাজির আওতায় পড়বে। এমন কারসাজির জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদ- ও অর্থদ-ের বিধান রাখা হয়েছে।

এ বিল পাসের ফলে বিদ্যমান আইনের আরও কয়েকটি ধারায় সাজার মেয়াদ কমছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোতে আগে যেখানে ১০ বছর বা সাত বছরের কারাদ- ছিল, তা সংশোধন করে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করা হয়েছে।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে এর ওপর আনা জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি শেষে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

বিলে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ বা প্রবেশের চেষ্টা এবং পরীক্ষা পরিচালনা-সংক্রান্ত বৈধ নির্দেশনা অমান্যের জন্যও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র বা পরীক্ষার হলে প্রবেশ করলে বা প্রবেশের চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদ- এবং অর্থদ- হতে পারে। পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশনা, বিধি বা নির্দেশ অমান্য করলেও একই শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে প্রশ্ন প্রকাশ, বিতরণ বা প্রচার-সংক্রান্ত ধারায় ‘অনলাইন প্ল্যাটফর্ম’ যুক্ত করা হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, কেউ প্রশ্ন বা সংশ্লিষ্ট বিষয় কোনো উপায়ে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মসহ নিজের কাছে রাখলে, প্রকাশ করলে বা বিতরণ করলে শাস্তির আওতায় আসবে। অপরদিকে যেকোনোভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাজা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদ-ের বিধান ছিল। বিলে ‘সংগঠিত পরীক্ষা অপরাধ’ নামে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে।