× UCB Sticker Card
রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ফারুক আহমেদ শাহেদ

প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০৬:০২ এএম

শেখ হাসিনার ফেরার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ফাঁকা আওয়াজ

ফারুক আহমেদ শাহেদ

প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০৬:০২ এএম

শেখ হাসিনার ফেরার সিদ্ধান্ত  রাজনৈতিক ফাঁকা আওয়াজ

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার এ বছর ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ঘোষণা ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা। নির্বাসনে থাকা দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ফেরার তথ্য জানিয়েছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বলছেন, তার এমন বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়। এর আগে নানাভাবে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছেন। বর্তমান এমন কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি পরিস্থিতি যাচাইয়ের চেষ্টা করছেন। যাতে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, নেত্রী নেতাকর্মীদের নিয়ে দেশে ফেরার কথা বললেও, বাস্তবতা এখনো সৃষ্টি হয়নি।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তার পুরো বিষয়টি আইনের আওতায় রয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তার কর্মের দায় স্বীকার করে দ্রুতই দেশে ফেরা উচিত। যদিও সে সাহস সহসা তিনি দেখাবেন না বলেই বিশ্বাস বিশ্লেষকদের। একই সঙ্গে দলটির রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার সঙ্গে কতজন নেতাকর্মী ফেরার ঝুঁকি নেবেন সেটাও বড় প্রশ্ন।

এদিকে, ২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। এর মধ্য দিয়ে তার টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই-আগস্টের ৩৬ দিনের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার সঙ্গে দলের বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ নেতা, সাবেক মন্ত্রী, দলীয় সংসদ সদস্য এবং তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যান। পরে অনেকেই ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ পায়। দেশে থাকা অনেক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হন। গত বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। তার পর থেকেই দলটির রাজনৈতিক তৎপরতা মূলত অনলাইনভিত্তিক। এর বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ঝটিকা মিছিল হয়েছে, যেগুলোকে দলটির সাংগঠনিক শক্তির চেয়ে অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এরই মধ্যে, রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এবং অন্য নেতারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। তবে এ বিষয়ে, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, নেত্রী নেতাকর্মীদের নিয়ে দেশে ফেরার কথা বললেও, বাস্তবতা এখনো সৃষ্টি হয়নি। কারণ অনেকে নিরাপত্তা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় ভারত ছেড়ে অন্য দেশে চলে গেছেন। সুতরাং এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে নেত্রীর এমন বক্তব্য দলকে উৎসাহ সৃষ্টি করছে।

বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, শেখ হাসিনা যদি ফিরতে চান কতগুলো আইনগত বিষয় আছে। এমনকি তার কাছে দেশের পাসপোর্টও নেই। তবে তার দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সরকারের উপর নির্ভর করে। তিনি বলেন, দেশে আসলেই প্রথমে জেলে যেতে হবে এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

রুহিন হোসেন বলেন, এই মুহূর্তে এটিকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে হয় না। কারণ আ.লীগ আলাপ-আলোচনা এবং মিডিয়ায় থাকার জন্য এগুলো করবে। আমি মনে করি, দেশে এখন অনেকগুলো সমস্যা আছে। সেই সমস্যার দিকে নজর দেওয়া দরকার। সরকারের বয়স খুব বেশিদিন হয়নি। ফলে জনগণের স্বার্থে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ে অগ্রসর হওয়া দরকার।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় দেশ পরিচালনা করেছেন এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি দেশে ফিরতে চান বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তার রাজনৈতিক অবস্থান বা ব্যক্তিগত ইচ্ছার প্রকাশও হতে পারে। তিনি যেটিকে সঠিক মনে করবেন, সেটিই করবেন। মান্না বলেন, আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, তাহলে বলব, তার এখানকার বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া উচিত। যদিও এ বিষয়ে আমার কিছু বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। আমার দৃষ্টিতে, দেশে ফিরলে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ দেখেছি, এসব তথ্য কতটা সত্য-মিথ্যা, তা আগে যাচাই করা প্রয়োজন। এর আগে শেখ হাসিনা অনেক কথা বলেছেন। কোনো ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজেকে আইনের কাছে সোপর্দ করার সিদ্ধান্ত নেন, সেটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে যেকোনো ব্যক্তির আইনের আশ্রয় নেওয়া এবং আইনগত সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করার অধিকার রয়েছে। যদি শেখ হাসিনা নিজে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা কীভাবে আসবেন, তার সঙ্গে কারা কারা আসবেন, তিনি আত্মসমর্পণ করবেন কি না এটা ঠিক করবে বাংলাদেশ সরকার। এ বিষয়টি দিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করবে। এখানে আর কোনো পক্ষ নেই। ফলে সরকারই ঠিক করবে তাকে কখন, কীভাবে আনা হবে এবং কীভাবে বিচারের রায় কার্যকর করবে, সব প্রস্তুতি নিয়েই তাকে আনতে হবে।

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের এই উপলব্ধি তার আরও আগে হলে ভালো হতো। ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে যত দ্রুত দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করেন, ততই ভালো। তিনি বলেন, অনেকে শেখ হাসিনার কথাকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন না। অতীতে এ ধরনের নানা কথা বললেও তিনি কথা রাখেননি। আমি এবার বিশ্বাস রাখতে চাই, কারণ তার বয়স হয়েছে। মৃত্যুর আগে অতীতের ভুল শোধরানোর একটা সুযোগ তিনি কাজে লাগালে খারাপ হবে না।

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, দেশে ফিরতে চাইলে আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে হবে। তার সেই সৎসাহস আছে বলে মনে করি না। তিনি যখন দেশ ছেড়ে চলে যান, আওয়ামী লীগ সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেননি। তিনি বলেন, দেশে ফেরার বক্তব্য ‘ফাঁকা আওয়াজ’। তিনি এমন আওয়াজ দেওয়ার মাধ্যমে নেতাকর্মীরা মাঠে নামছেন কি না, সেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি সহসা দেশে আসবেন বলে মনে করার কোনো সুযোগ নেই বলেই জানান তিনি। মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির অনেক নেতাই এখন ‘পরিবার লীগ’ বলেই মনে করেন। তারা মনে করেন, শেখ হাসিনা সবার আগে নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন, পরিবারের লোকজনকে আগে বিদেশে পাঠিয়েছেন। কিন্তু দলের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেননি।

শেখ হাসিনার এই সাক্ষাৎকারের বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তার পুরো বিষয়টি আইনের আওতায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দেশের গণমাধ্যম আদালতের নিষেধাজ্ঞা সম্মানের চোখে দেখবে বলেও মনে করেন তিনি।

এদিকে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে নানা এ ধরনের গুজব ছাড়নো হচ্ছে। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষ ও তারেক রহমানের চীন সফরের অর্জনকে ভিন্নখাতে নিতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। তবে হাসিনার দেশে ফেরার জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা, সাংগঠনিক প্রস্তুতি বা কোনো ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ এখনো বাস্তবিক তাৎপর্য নেই। ফলে তার এমন ঘোষণা শুধুই দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা এবং রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক দলগুলো।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!